চা চাষে অভাব দূর

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৪ ১৬:৫৪:২৭


অন্যান্য ছোট বাগানের মত বাড়ির পাশেই ছোট পরিসরে চলছে চা চাষ। ট্রেইডক্রাফট নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইকুয়ালিটি নামের প্রকল্পের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা ও তেঁতুলিয়া এবং ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চা চাষ শুরু করে।  প্রায় চার হাজারের মত  কৃষক এ চাষে জড়িত হন। এখন বাড়ির পাশের পড়ে থাকা অনুর্বর জমিতে সোনা ফলার গল্প তাঁদের মুখে মুখে।

চা চাষের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের জীবনমান উন্নয়নই ছিল এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই বলে জানান,কুয়ালিটি টি প্রকল্পের সমন্বয়কারী শাহ সুফি মো. আল মোতোয়াক্কেল বিল্লাহ।

গত বছরের শেষ দিকে একটি বেসরকারি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কাইজেন সিএসআরকে দিয়ে চা চাষ প্রকল্পের মূল্যায়ন করায়ট্রেইডক্রাফট। প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র চাষির ওপর এই জরিপ চলে। দেখা গেছে, চায়ের উৎপাদনই শুধু নয়, এসব পরিবারের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে ব্যাপকভাবে। মূল্যায়নে করার সময় সেই পরিবারগুলোকে বেছে নেওয়া হয়, যারা ২০১৫ সাল থেকে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

দেখা গেছে, অন্তত ৭০ শতাংশ কৃষক এক বিঘা জমিতে ১ হাজার ৪০০ কেজি চা উৎপাদন করেছেন । এই প্রকল্পে যা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তার চেয়ে এই উৎপাদন ১৩ শতাংশ বেশি। নারীপ্রধান পরিবার আবার এ ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে। নারীপ্রধান ৯৫ শতাংশ পরিবার ১ হাজার ৪০০ কেজি চা পেয়েছে। আর ৮১ শতাংশ পুরুষপ্রধান পরিবার এই পরিমাণ চা উৎপাদন করেছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ বলেন, উৎপাদনের এই হার খুবই ভালো।

এই এলাকার কৃষকরা জানান, আগে এসব জমিতে কষ্টেসৃষ্টে বিঘাপ্রতি চার থেকে পাঁচ মণের বেশি ধান তাঁরা পেতেন না। এখন চা চাষে লাভ বেশি। এই চাষ আর ছাড়ছেন না তাঁরা।

কাইজেনের জরিপে দেখা গেছে, এখন এসব ক্ষুদ্র চাষির বার্ষিক গড় আয় হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬৮ টাকা। ফসল উৎপাদন করে তাঁরা যা পেতেন, এখন তার দ্বিগুণের বেশি পান—এমন কথা বলেছেন একাধিক কৃষক।

বাংলাদেশ টি বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, দেশে চায়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখন চাহিদার তুলনায় ভোগের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে দেশে প্রায় ৬৪ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়। ওই বছর অভ্যন্তরীণ ভোগের পরিমাণ ছিল ৬৭ মিলিয়ন কেজির বেশি। ২০১৭ সালের প্রায় ৭৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন হলেও ভোগ হয় প্রায় ৮৬ মিলিয়ন কেজি।