কবি আল মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৭ ১১:৪১:০৮


আম্মা বলেন, পড়রে সোনা

আব্বা বলেন, মন দে;

পাঠে আমার মন বসে না

কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।

আল মাহমুদ, যার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ, ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত, ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাক্‌ভঙ্গীতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন।

আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে,

হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।

মায়ের হারানো সোনার নোলক খুঁজতে কবি, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরেও অংশ নিয়েছেন।খুঁজে এনেছেন মায়ের হারিয়ে যাওয়া সোনার নোলক।১৯৫০-এর দশকে যে কয়েকজন লেখক বাংলা ভাষা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক নিপীড়ন এবং পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন আল মাহমুদ। ১৯৬৩ সালে লোক লোকান্তর, ১৯৬৬ সালে কালের কলস, ১৯৭৩ সালে সোনালী কাবিন, ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

কবি আল মাহমুদ তার সাহিত্য কর্মের জন্য পেয়েছেন পুরস্কার ও সম্মাননা,

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), জয় বাংলা পুরস্কার (১৯৭২), হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭২),জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭২), কাজী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬), কবি জসীম উদ্দিন পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (১৯৮৬), নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০), ভানুসিংহ সম্মাননা পদক (২০০৪), লালন পুরস্কার (২০১১)।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

সানবিডি/ এনএইচআর