চুড়ান্ত অনুমোদন পেলো কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৮ ১৯:৪৫:৫৯
চুড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড। কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনটি করছে বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপ। জেলার, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের দুই পাশে ৯১ দশমিক ৬৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জোনটি। জোনটি পুরোপুরি বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চুড়ান্ত অনুমোদনের সনদ তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব) মোঃ ফারুক হোসেন, নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ, নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস-চেয়ারপার্সন সেলিমা আহমাদ এমপি, কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুসাব্বির আহমাদ এবং টাটা মটরস লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার জিতেন্দ্র বাহাদুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী। এছাড়া বেজার নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব, কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন এর উদ্দ্যোক্তাগণ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্যোক্তাগণ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বেজার সূত্র মতে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় এবং ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রাইভেট অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বেজা ইতোমধ্যে ১৯ টি প্রতিষ্ঠানকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করেছে এবং আটটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চুড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেডকে চুড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
জোনটি ভৈরব-কিশোরগঞ্জ ১০০ ফুট মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত। জোনের নিজস্ব রেল লাইনটি গচিহাটা রেল স্টেশন পয়েন্টে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ লাইনে যুক্ত আছে এবং আশুগঞ্জ ও ভৈরব নদী বন্দর থেকে জোনের দুরুত্ব মাত্র ৪০ কি.মি.।
আবুল কালাম আজাদ, চুড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন- কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন এর উদ্দ্যোক্তাগণ তাদের পূর্ব ব্যবসার সুনাম অক্ষুন্ন রেখে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন সফল ভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম হবে এবং শিল্প অবহেলিত হাওরাঞ্চলে তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে।
ফারুক হোসেন বলেন, নিটল নিলয় গ্রুপ কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন ¯’স্থাপনের মাধ্যমে দেশের দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রাখবে।
আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, নিটল-নিলয় গ্রুপ বিগত ৩৩ বছর ধরে মটরযান ও সংযুক্তি ও বাজারজাতকরণ, মটরসাইকেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, সিমেন্ট, পেপার, ইলেক্ট্রনিক্স, তথ্য প্রযুক্তি ও সম্প্রচার মাধ্যম সহ অন্যান্য সেক্টরে সাফল্যের সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে যে অবদান রেখে চলছে। এই জোন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আরও বেগবান হবে।
সেলিমা আহমাদ এমপি বলেন, নিটল নিলয় গ্রুপ তার জন্ম লগ্ন থেকেই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে এবং এই জোন প্রতিষ্ঠার মাধম্যে সরকারের সাথে একাত্বভাবে রাষ্ট্রীয় এ দায়বদ্ধতা পুরনে শরিক হল।
জোনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুসাব্বির আহমাদ বলেন, আমরা এখানে উন্নত বিশ্বের মত একটি আধুনিক শিল্প নগর গড়ে তুলব। যেখানে কর্মী বাহিনী আধুনিক জীবন-জাপনের সুবিধা পাবে। এই জোনটি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের তহবিল হতে ঋণ গ্রহন প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হবার পথে বলেও জানান তিনি।
পবন চৌধুরী বলেন-বলেন, বেসরকারি খাতে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা কৃষি নির্ভর হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভৈরবের নিকটে অবিহিত হওয়ায় সহজে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও এই অনগ্রসর এলাকার জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা রাখবে।
উল্লেখ, এই জোনে ভারতের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাটা মটরস লিমিটেড বাংলাদেশের নিটল-নিলয় গ্রুপের সাথে যৌথ উদ্যোগে টাটা ব্র্যান্ডের মোটরযান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। যার আমদানীকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতি বিদেশ হতে ইতোমধ্যেই জোনে এসে পৌছছে। কারখানার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ ও এই যৌথমূলধনী কোম্পানীর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের আরও একটি বিশ্বখ্যাত স্টীল প্রস্তুকারী কোম্পানী এখানে বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও এই জোনে দেশী বিদেশী এগ্রোবেইজড ফুড এন্ড বেভারেজ, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, তথ্য প্রযুক্তি ও টেলি-যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














