এক পশলা বৃষ্টি হলে নতুন রাস্তা ভেঙ্গে যায় কেন: কাদের
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০২-১৯ ১৮:৩৬:৩১
নতুন রাস্তা নির্মান করার পর এক পশলা বৃষ্টি হলে রাস্তা ভেঙ্গে যায়, রাস্তার ছাল বাকল থাকেনা, বলে মন্তব্য করেছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের । তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কোথাও কোথাও রাস্তার উপরে বড় বড় গর্ত, ছেঁড়া কাঁথার মত রাস্তার মধ্যেখানে ফাটল দেখা যায়, তাহলে বড় বড় বরাদ্দ দিয়ে এসব রাস্তা নির্মান করার মানে কী? এসব কেন হয়?
মঙ্গলবার ১৯ ফেব্রুয়ারী বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাস্তা সঠিকভাবে মেরামত ও কাজের কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন আছে। আগামী রমজানের ঈদের আগেই সব ধরনের ভাঙা রাস্তা মেরামত করতে হবে। চলমান সব কাজ শেষ করতে হবে। মানুষ যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, রাস্তা ইউজেবল (চলাচলে উপযোগী) করতে হবে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের এখানে একটা প্রবলেম হচ্ছে ওভারওয়েট, সেটা আমরা সবাই জানি। তাই বলে এত দ্রুত কেন রাস্তার বেহাল দশা হবে? নির্মাণ কাজের যে ত্রুটি আছে, যথাযথ মানের রাস্তা তৈরি করার জন্য সরকারের যে নির্দেশনা, তা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নিজের জেলার বেগমগঞ্জেও একটা সড়কের কাজে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণসামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছিল। অভিযোগ পাবার পর তদন্তেও সেটা প্রমাণিত হয়। মন্ত্রীর নিজের এলাকাতেও যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে অন্য এলাকায় কী অবস্থা হতে পারে?
তিনি বলেন,আপনাদের প্রতি আমার প্রধান নির্দেশনা হচ্ছে, ‘রাস্তার কাজের মান যেন নিশ্চিত করা হয়। কাজটা যেন ৩, ৪ বা ৬ মাসে নষ্ট না হয়ে যায়।এটা দেশের কাজ সবাই মনে রাখবেন। আর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করার মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। অনেক সময় প্রয়োজনে রাতেও কাজ করতে হবে। অনেকেও করেন, অনেকে করেন না। সরেজমিন দেখেছি। অনেক ত্রুটি ও দুর্বলতার ছবি দেখতে পাই। অবশ্য অনেক ইঞ্জিনিয়ার আছেন সততার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিশ্রুতিশীলতার সঙ্গে কাজটা করেন। আবার অনেক ইঞ্জিনিয়ার দেশের কাজ হিসেবে নয় চাকরি মনে করেই করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘কাজের কোয়ালিটি যদি খারাপ তাহলে তার দায় নিতেই হবে। কারণ, আজকাল কিন্তু ফেসবুকে লোকজন রাস্তার ছবি তোলেন। ভোগান্তির ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেন। কোনো কিছু আর হাইড করা যায় না। সোস্যাল নেটওয়ার্কের কারণে মুহূর্তেই ভোগান্তির তথ্য প্রচার পায়। সুতরাং অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। কাজের ব্যাপারে মনোযোগী থাকা দরকার আপনাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে মিডিয়ায় রিপোর্ট আসে। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি হলে মন্ত্রী হিসেবে কি আমি দায় এড়াতে পারব? ফর নাথিং আমি এ দায়টা কেন নেব? আমি তো নিজে আপনাদের কাছ থেকে কাজের জন্য পার্সেন্টেজ নিই না, কমিশন খাই না। প্রমোশন দিয়ে টাকা নিচ্ছি না। কাউকে বদলি করে টাকা খাওয়া, সেটাও এখন তো বন্ধ। এক সময় তো চিফ ইঞ্জিনিয়ার হতেও টাকা লাগত। প্রমোটেড হতেও টাকা লাগত। সেটাও তো নেই না। তাহলে অসুবিধাটা কোথায়। কেন দায় বহন করতে হবে? এসব ছবির পরিবর্তন হলে অন্য যেসব সমালোচনা আছে তা একটু চেষ্টাতেই আমরা অতিক্রম করতে পারব।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সড়কের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করেন মন্ত্রী। সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, সওজের ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস উইং, টেকনিক্যাল সার্ভিসেস উইং, ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং, পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইং ও যান্ত্রিক উইংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














