ইস্ট ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোনকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৫ ১৭:৫৯:২২


দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের আওয়তাধীন ইস্ট ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোনকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ(বেজা)।

সোমবার ২৫ ফেব্রুয়ারী বেজা কার্যালয়ে এ লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। এটি হবে বেজা কর্তৃক প্রদত্ত দশম বেসরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চল লাইসেন্স। বেজা বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক এবং সেবা প্রদানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বুড়িগঙ্গা নদী সংলগ্ন স্থানে ১০২.৬৯৯২ একর এলাকা জুড়ে ইষ্ট ওয়েষ্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোনের অবস্থান। প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনের উদ্যোক্তা বসুন্ধরা গ্রুপ। জোনটি হজরত শাহাজালাল বিমান বন্দর হতে ৩২ কি.মি, ঢাকা মহানগর হতে মাত্র ৮ কিলোমিটার এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হতে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনে ফুড প্রোসেসিং, এলপিজি সিলিন্ডার, এডিবল ওয়েল, বিটুমিন, প্যাকেজিং ভিত্তিক শিল্প স্থাপনা গড়ে তোলা হবে। মাষ্টার প্ল্যানে প্রসেসিং এলাকা ৫৮.৩০% রাস্তা, ইউটিলিটি এবং সবুজ এলাকা সহ নন-প্রসিসিং এলাকা ৪০.১৭% এবং ৩.৩৮% বানিজ্যিক এলাকা দেখানো হয়েছে।

উক্ত জোনটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জোনটির সফল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২০,০০০ লোকের সরাসরি এবং পরোক্ষ ভাবে ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়। প্রস্তাবিত জোনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের জন্য শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানা ও প্রশাসনিক ভবন, পণ্যাগার,  লজিস্টিক এলাকা, পানি ও বর্জ্য শোধনাগার, সড়ক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং সবুজায়ন করা হবে। পরিবেশের উপর যাতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পরে তার জন্য পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

বেজার চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রাপ্ত ০৬টি বেসরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চল হতে ১৭টি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। এছাড়া আরোও ২১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। এসকল অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৯৭৮৫ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে সিমেন্ট, ভোজ্য তেল, ব্যাগ, পেপার, টিস্যু, বেভারেজ প্রভৃতি পণ্য বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। আব্দুল মোনেম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানী প্রতিষ্ঠান হোন্ডা বাংলাদেশ প্রাইভেট লি: মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করেছে এবং বে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদিত খেলাধুলার সামগ্রী জাপান ও চীনে রপ্তানী  শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বসুন্ধরা গ্রুপকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন  ঢাকার নিকটবর্তী স্থানে হওয়ায় ইস্ট ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাবে বলে বেজা মনে করে। তিনি বলেন, নিমতলী, চকবাজারের মত ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এসব মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে বেজা বদ্ধ পরিকর। তিনি বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ করেন সরকারের সকল আইন ও নীতি প্রতিপালন করে তারা যেন পরিকল্পিত শিল্প স্থাপন করেন। এছাড়া দেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ রেখে পরিকল্পনা তৈরী করার পরামর্শ দেন নির্বাহী চেয়ারম্যান। শুধুমাত্র কর অবকাশ বা ইনসেন্টিভ প্যাকেজের কথা চিন্তা না করে বৃহত্তর স্বার্থে সকল বিনিয়োগের জন্য সুযোগ সৃষ্টির প্রতি  তিনি গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোনের কর্ণধার জনাব শাফিয়াত সোবহান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে এবং রপ্তানীযোগ্য পণ্য প্রস্তুতিতে বসুন্ধরা গ্রুপ সুনামের সাথে কাজ করে এসেছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠান দেশ এবং দেশের বাইরের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেজার কর্মকর্তাগণ এবং ইস্ট ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোনের অন্যান্য কর্মকর্তার মধ্যে চিফ অপারেটিং অফিসার মোঃ ফকরুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।