করতোয়া দখলমুক্ত করার নির্দেশ জেলা প্রশাসনের
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৮ ১৫:২৭:১৫
আগামী সাতদিনের মধ্যে বগুড়ায় করতোয়া নদীর উপর স্থাপিত সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দখলদারদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। পৌরসভাসহ ৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এ নোটিশ পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আলীমূন রাজীব জানান, প্রথম পর্যায়ে ৩০ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এটি ছাড়াও করতোয়া নদী দখলদারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে নোটিশ অনুসারে স্থাপনা না সরালে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
জেলা প্রশাসনের ভূমি শাখা থেকে গত সোমবার পাঠানো এই নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে নদীর সীমানা থেকে অবৈধ স্থাপনা নিজ নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে বলা হয়। বেঁধে দেয়া সময়ের পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সেসব স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।
সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা বগুড়া শহর ও শহরতলির বিভিন্ন অংশে করতোয়া নদী দখলকারী ৩৮ জনের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছিল। এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি তোলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ (বাপা) বেশ কিছু সংগঠন।
এই প্রতিবেদনে করতোয়া নদীর তিনটি অংশে দখলের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ-সংলগ্ন মহিষাবান মৌজায় প্রায় ১৫ বিঘা আয়তনের নদীর জায়গা অবৈধ ভাবে দখল ও মাটি ভরাট করে ছাত্রাবাস ও ক্যান্টিন নির্মাণ এবং নদীর জায়গা পুকুর হিসেবে ব্যবহার করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বগুড়া শহরের নওয়াববাড়ি সড়কে টিএমএসএস মহিলা মার্কেটের পূর্ব পাশে সূত্রাপুর মৌজার করতোয়ার নদীর পশ্চিম তীর ভরাট করে টিএমএসএস অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
করতোয়া নদী ১১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। বগুড়া শহরের ভেতরে দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ আড়াআড়ি ভাবে প্রবাহিত। আগে মূল করতোয়া নদীর সঙ্গে করতোয়ার সরাসরি সংযোগ ছিল। এখন উৎসমুখে জলকপাটের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে করতোয়ার পানিপ্রবাহ।
পরিবেশবাদী ও নদী বিষেজ্ঞরা বলেছেন, করতোয়ার অবস্থা খুবই নাজুক। উৎসমুখে জলকপাটের কারণে নদীটি অনেক আগেই নাব্য হারিয়েছে। এখন পাল্লা দিয়ে চলছে নদীর জায়গা দখল ও পানিদূষণ।
রাজশাহী বিভাগের পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, বিসিএল পেপার মিলের ইটিপি বন্ধ রেখে বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলা হলে তদন্ত করে টিএমএসএসের বিরুদ্ধে মালতিনগর ভাটকান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ও পানির পাম্প স্থাপন এবং কালেক্টরেট স্কুল-সংলগ্ন স্থানে নদীর জায়গা ভরাট করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, নদী কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক নদী দখলদারের তালিকা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













