মাল্টা চাষে পোল্ট্রির লোকসান কাটাল কৃষক

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৮ ১৫:৫৮:২৬


মাল্টা চাষে যশোরের মণিরামপুরের যুবক আব্দুল করিমের সুদিন ফিরেছে। পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হিসেবে সফল ছিলেন তিনি কিন্তু  হঠাৎ লোকসানে তলিয়ে যান। সেখান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মাল্টা চাষের মাধ্যমে। তাঁর সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে মাল্টা চাষ শুরু করেছে।

শিক্ষিত যুবক করিম। পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানে ভালো চাকরির সুযোগ না পেয়ে আবান বাড়িতে ফিরে আসেন। গড়ে তোলেন মুরগীর খামার। কিন্তু দূর্ভাগ্য তার ২০০৮ সালে বার্ড ফ্লুর আক্রমণে  খামারের সব মুরগী মারা যায়। এতে তাঁর ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ফলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন করিম।

জীবিকার তাগিদে আবার নতুন উদ্যোগ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি।২০১৪ সালের অক্টোবরে তৎকালীন খুলনা কৃষি ইনস্টিটিউটের গবেষক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের উৎসাহ ও পরামর্শ নিয়ে বারি মাল্টা-১ জাতের মাল্টা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। সে মোতাবেক সেখান থেকে ১৫০ টাকা দরে ১৭০টি বারি-১ জাতের মাল্টার চারা এনে ৪২ শতক জমিতে রোপণ করেন। এক টন মাল্টা বিক্রি করে আয় হয় দেড় লাখ টাকা। এ বছর ৯৪টি গাছে পরিপূর্ণভাবে মাল্টা ধরেছে। এগুলোও বিক্রি চলছে। এবার প্রায় তিন টন মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এতে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় হবে।

আব্দুল করিম বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মাল্টা চারা কলমের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছে, যা অন্তত ১৫০ বিঘা জমিতে চাষ করা যাবে। সারা দেশ থেকে কম-বেশি চাষিরা চারাগাছ সংগ্রহের জন্য আসছে। ন্যূনতম চারা প্রতিটি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত তিন বছরে অন্তত ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি করা হয়েছে। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার বলেন, ‘চাষাবাদের মাধ্যমে যে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব এর বড় উদাহরণ হলো মাল্টা চাষি আব্দুল করিম।