দেশি মুরগির খামারে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৩-০৪ ১৮:৩৮:৫৭
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দেশি মুরগির খামারে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা।উপজেলার ধড়মোকাম গ্রামের শিক্ষিত যুবক জাকারিয়া হোসেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর চাকরি না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের বাঁকা চোখ তাকে ভয়াবহ হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। অবশেষে নিজ বাড়িতে দেশি মুরগির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি । ৫০টি দিয়ে শুরু করে এখন এক হাজার মুরগি নিয়ে তার খামার।
শুধুমাত্র জাকারিয়াই নয়, এ উপজেলার তার মত আরো প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি মুরগির (অরগানিক) খামার গড়ে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব খামারের সঙ্গে যুক্ত থেকে আরো পাঁচ হাজারেরও অধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি জাতের মুরগির খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হানের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের দেশি মুরগির অরগানিক খামার গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়। প্রথমে এগিয়ে আসেন মাত্র ১০ জন যুবক। তাদের সাফল্য দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আরো অনেকে।
এই যুবকদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় ‘স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি’ নামের একটি সংগঠন। এ সংগঠনের মাধ্যমে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় এই খামারের ধারণা, পাশাপাশি মুরগীর খামারে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। প্রায় চার বছরের ব্যবধানে উপজেলায় ৩৫০টি খামার গড়ে উঠেছে। এই খামারিদের মধ্যে নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন ১০০ জন। তারা সবাই এখন স্বাবলম্বী। অথচ কয়েক বছর আগেও তারা চাকরি না পাওয়ার হতাশায় ছিলেন।েএ
এখানকার সফল একজন খামারি সুবর্ণা খাতুন। অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পর চাকরি খুঁজে ব্যর্থ হয়ে দেশি মুরগি পালনে প্রশিক্ষণ নেন। প্রথমে ১০টি মুরগি নিয়ে শুরু করা খামারে এখন ৩০০ মুরগি। খামারের লভ্যাংশ দিয়েই আরো বড় খামার ও একটা ভালো বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। চাকরি খুঁজে ব্যর্থ হলেও খামার করে সফল হওয়া আরেক যুবক আব্দুস সালাম। বর্তমানে খামার থেকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
এ উপজেলার খামারিরা জানান, তাদের অনেকে বাচ্চা ফোটানো, কেউ মাংস, কেউ ডিম উৎপাদনের ব্যবসা করেন। আবার একসঙ্গে একাধিক কার্যক্রমও চলে কিছু খামারে। ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত মুরগির বাচ্চাগুলো উন্মুক্ত পদ্ধতিতে পালন করা হয়। এরপর মোরগ ও মুরগি আলাদা করে মাংস ও ডিমের জন্য আলাদা যত্ন নিতে হয়। ৭০ থেকে ৭৫ দিন বয়সী মুরগি বিক্রির উপযুক্ত হয়। আর চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে ডিম দেওয়া শুরু করে। একটি মুরগি মাসে গড়ে ২০টি ডিম দেয়। একটি মুরগি এক কেজি ওজনের করতে খরচ হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা, সেটি বিক্রি হয় ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। বিপণনে বড় ভূমিকা রাখে স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি সংগঠন। ডিম ও বাচ্চার খবর, মুরগির বাজারদর, ক্রেতার সন্ধান দিতে সহায়তা করেন এ সংগঠনের সদস্যরা।
শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রায়হান বলেন, দেশী মুরগীর খামারের এই সেক্টরটি সম্ভাবনাময়। স্বল্প বিনিয়োগে চাকরির বিকল্প কর্মসংস্থানের নতুন খাত এটি। তাদের এই মডেল খামার সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে এটি নিরাপদ মাংস ও বেকার সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














