স্বল্প পুঁজিতে নার্সারিতে তরুণদের কর্মসংস্থান
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৩-০৫ ২০:৪৫:৩৬
বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত নার্সারি ব্যবসার প্রসার ঘটছে। কয়েক বছর পুর্বেও এ ব্যবসার বিস্তার খুব একটা লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু দিন যতই গড়াচ্ছে ততই দ্রুত এ ব্যবসার প্রসার ঘটছে। স্বল্প পুঁজিতে এবং কম সময়ে বেশি আয়ের নিশ্চয়তায় এখন অনেক শিক্ষিত তরুণ নার্সারি ব্যবসায় জড়িত হচ্ছেন। তাই এ খাতে তৈরি হচ্ছে সাহসী উদ্যোক্তা। ফলে এখন ফুটপাত কিংবা অভিজাত এলাকায় অলিগলিতে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের নার্সারি ব্যবসা গড়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে নার্সারি মালিক সমিতির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, অল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে নার্সারি ব্যবসায় বেশি লাভ করা যায়। আর প্রতিনিয়ত নার্সারিগুলোতে বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় মালিক-কর্মচারীরাও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। পাঁচ বছর আগে একটি নার্সারিতে মাসে প্রতি মাসে বিক্রি হত ১ থেকে ২ লাখ টাকা কিন্তু এখন সেখানে এ ব্যবসায় প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা বিক্রি হয়। তাই এ ব্যবসায় বর্তমানে অনেক শিক্ষিত যুবক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সঙ্গে নার্সারি বাড়ায় নতুন নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য এখন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন স্লোগান জোরালো হচ্ছে। এ স্লোগান ধারণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশকে বৈশ্বিক উষ্ণতার হাত থেকে বাঁচাতে সবুজায়নের আহ্বান জানান। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগও শুরু হয়েছে। মূলত এসব কারণে দেশে সচেতনভাবেই নার্সারি ব্যবসার প্রসার ঘটেছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন তরুণ নার্সারি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনও দেশে বেসরকারি পর্যায়ে সরাসরি অর্থ সহায়তা মিলছে না। তবে উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ব্যবসা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই আশা করছেন। তারা দাবি করছেন, এ খাতে উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তা দিতে যদি অনুদান ও ঋণ সহযোগিতা সম্প্রসারণ ঘটানো যায়, তাহলে নার্সারি ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ নার্সারি মালিক সমিতির তথ্যমতে, সারা দেশে প্রায় ২২ হাজার তালিকাভুক্ত নার্সারি আছে। এসব নার্সারি গুলোতে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। এছাড়াও গড়ে ওঠা এসব নার্সারিতে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এই নার্সারির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে । আর পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এছাড়া খোদ রাজধানীতেই রয়েছে ৫২২টি নার্সারি।
এর মধ্যে আগারগাঁও নার্সারি মালিক সমিতির আওতাভুক্ত এলাকা ছোট-বড় মিলে ৪০টি নার্সারি গড়ে উঠেছে। রাজধানীর মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গুলশান, বনানী, সাভারসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় মিলে ৮০০টির বেশি নার্সারি রয়েছে।
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে সাথী ফ্লাওয়ার অ্যান্ড নার্সারি। সেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতা মো. রুবেল বলেন, অল্প বিনিয়োগ ও সঠিক পরিচর্যায় নার্সারি ব্যবসায় বেশি লাভ করা যায়। এ নার্সারিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
অন্যদিকে আগারগাঁওয়ের বরিশাল নার্সারির মালিক খোকন জানান, তিনি দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। মাসে তার আয় হয় প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো। তিনি দাবি করেন, অনেকেই নার্সারি ব্যবসা শুরুর তিন-চার বছরের মধ্যে জমি ও বাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ফলে দিন দিন এ ব্যবসার প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমানে শহরের মানুষ এখন অনেক সচেতন। গাছ লাগানোর মতো জায়গা তাদের না থাকলেও বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দাসহ যেখানেই সুযোগ পাচ্ছেন সবুজায়নের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছেন। আগ্রহী এসব ক্রেতার প্রয়োজনীয় রসদের জোগান দিচ্ছে ঢাকায় গড়ে ওঠা এসব নার্সারি। এগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের সৌন্দর্যবর্ধক গাছ কিংবা ফুল, ফলের চারা, বনজ উদ্ভিদ, সবজি, মসলাসহ হাজারও প্রজাতির বৃক্ষ।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














