ভারত শুল্ক প্রত্যাহার না করায় পাটপণ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০৬ ১৫:২৫:৪৩
বাংলাদেশের পাটপণ্যে ভারত সরকার কর্তৃক আরোপিত অ্যান্টিড্যাম্পিং ডিউটি প্রত্যাহার না করায় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের পাটের বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এ সময় মন্ত্রী জানান, ভারত সরকার যেন বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর থেকে অ্যান্টিডাম্পিং ডিউটি প্রত্যাহার করে নেয়, সে লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মন্ত্রী আরো জানান, নতুন নতুন পাটজাত পণ্য (যেমন পাট থেকে ভিসকস, পাট পাতা থেকে পানীয়, পাট থেকে পলিথিন ব্যাগের বিকল্প সোনালি ব্যাগ, পাটকাঠি থেকে চারকোল ও জুট কম্পোজিট গার্মেন্টস) উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বিভিন্ন গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে মোট ৩১৪টি পাটকলের মধ্যে এখনো ৬৩টি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই) অনুযায়ী, দেশে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৭। সম্প্রতি আরো ছয়টি পাটকল পুনঃগ্রহণ করায় মোট জুটমিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩-এ। এর মধ্যে সাতটি বন্ধ রয়েছে। আর বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৮১, যার মধ্যে ৫৬টি বন্ধ রয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট থেকে সোনালি ব্যাগ তৈরি করা হবে। পণ্যটির প্রসারের লক্ষ্যে পাটকল করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন এক লাখ সোনালি ব্যাগ তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংসদে মন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে দেশে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল, আইভরি কোস্ট, জিবুতি, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, এল সালভাদর, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, তিউনিশিয়া ও জার্মানিতে পাট রফতানি করা হয়।
বাধ্যতামূলক প্যাকেজিং আইন বাস্তবায়ন করতে হবে: দেশের পাট শিল্পকে রক্ষার স্বার্থে বাধ্যতামূলক প্যাকেজিং আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনে (বিজেএমসি) জাতীয় পাট দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপণনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে পাটের বাজার ডাউন হওয়ার কারণে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণে পাটের সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ব প্লাস্টিক বর্জন করতে শুরু করেছে। এজন্য আমরা পাটের সুদিন নিয়ে আশাবাদী। আমাদের পাটের সম্ভাবনার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে পাটকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














