স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৬ ১১:০১:৩৫
২৬ মার্চ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। স্বাধীনতা যে কোনো জাতির পরম আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ, গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়নীতিভিত্তিক সমাজ গঠন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, জানমালের নিরাপত্তা বিধান, ধর্ম পালন, নিজস্ব সংস্কৃতি-মূল্যবোধ-বিশ্বাসের অবারিত চর্চা নিশ্চিত করা ইত্যাদি সাধারণ জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিটি জাতির জন্য অপরিহার্য।
ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয় এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে অস্তিত্বময় হয়েছে বাংলাদেশ। জাতির বীর সন্তানদের মরণপণ লড়াই, অসংখ্য আত্মদান ও গোটা জাতির অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
ইসলামে স্বাধীনতার মর্যাদা সম্পর্কে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, একদিন ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেওয়া পৃথিবী ও তার অন্তর্গত সবকিছুর চেয়ে উত্তম। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মৃত ব্যক্তির সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তার আমল আর বৃদ্ধি পেতে পারে না। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে ব্যক্তি কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহরায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তার আমল কেয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং কবরের প্রশ্নোত্তর থেকেও সে মুক্ত থাকবে। -তিরমিজি ও আবু দাউদ
স্বাধীনতার মতো বিশেষ এ নিয়ামতকে সর্বোচ্চ মর্যাদাদান করা উচিত আমাদের। স্বাধীনতার অর্জন যাতে কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত। মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু স্মৃতিচারণ নয়, জাতির জীবনে স্বাধীনতা অর্থবহ, তাৎপর্যময় করে তোলার পাশাপাশি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে শপথ গ্রহণের দিনও। স্বাধীনতা অর্জন যত কঠিন, স্বাধীনতা রক্ষা করা তার চেয়ে বেশি কঠিন। চলমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং আমাদের বাস্তবতায় এই বিষয়টি নানাভাবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাতির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
জাতির সবচেয়ে মহান ও মহিমান্বিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির প্রসঙ্গ উঠলে দেখা যাবে, বিগত বছরে আমাদের অর্জন একেবারে কম না হলেও যতটা হওয়ার সম্ভাবনা ও সুযোগ ছিল, ততটা অর্জিত হয়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে আমাদের রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সক্রিয় ছিল। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তিতে দাঁড়িয়েছে, বাস্তবতার আলোকে তা বলা যাবে না। সহনশীলতা, ধৈর্যশীলতা, সবার জন্য আইনের সমপ্রয়োগ নিয়ে এখনও প্রশ্ন তোলার সুযোগ মেলে। সংঘাত-সহিংসতার রাজনীতি থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারিনি। জনগণ এখনও রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেন। এবারের স্বাধীনতা দিবসে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলমান এবং এর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তাই এ দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ভিত্তি হতে হবে ইমান ও সততার। পূর্ণাঙ্গ মুমিনের জীবন ও চেতনা ধারণ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুরক্ষা হবে না। নাগরিকদের আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ চেতনা গড়ে ওঠার জন্য সর্বব্যাপী ইমানের বলে বলীয়ান শক্তির প্রয়োজন সর্বাধিক। আর প্রয়োজন সততার।
স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য বেশি প্রয়োজন সংগ্রাম ও শক্তির। আর স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন প্রযুক্তি, কৌশল, ঐক্য ও ন্যায়বোধ। এ ছাড়া স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে জ্ঞান, বুদ্ধি, শিক্ষা ও সৎ বিবেচনাকে কাজে লাগানো একান্ত অপরিহার্য। মূলত যথেষ্ট সচেতন ও সংঘবদ্ধ না হলে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা যায় না। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে হয় এবং সদা সতর্ক থাকতে হয়। তাই স্বাধীনতার মর্ম উপলব্ধি করে একে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য মনে করা উচিত। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের এই মৌল চেতনা সবাইকে অনুপ্রাণিত করুক- এটাই মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রত্যাশা।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













