আমি পুঁজিবাজারের সফলতা দেখতে চাই

পুঁজিবাজার ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৩-২৮ ১৬:০৯:৪৬


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমি পুঁজিবাজারের সফলতা দেখতে চাই। বিশ্বের যে দেশের অর্থিনীতি যত বড় সেই দেশের পুঁজিবাজার তত বেশি শক্তিশালী। বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। আমি পুঁজিবাজারকে ঠেলে দিয়ে অর্থনীতির সমৃদ্ধির সূচক এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই না।  অর্থনীতির সূচকের সাথে পুঁজিবাজারের সূচককে এক সাথে গেথে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্স ২০১৯ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, সামনে বাজেট সেখানে পুঁজিবাজারের জন্য কি রাখবো তা আমি আগে থেকে বলবো না। পুঁজিবাজারের দিকে সরকারের সুনজর আছে। আমি পুঁজিবাজারকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। পুঁজিবাজারের ব্যাপক অবকাঠামে উন্নয়ন হয়েছে। একটি জিনিস বাদ আছে সেটা হচ্ছে মানুষের মাইন্ড চেঞ্জ করা। সেটা যদি করা যায় তাহলে তাহলে বাজারের আরও উন্নয়ন হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য শিক্ষা নিতে হবে। প্রথমে ঠিক করতে হবে আমরা কোথায় যাচ্ছি। এটা মাছ বাজার বা কাঁচা বাজার নয়। এ বাজার আমাদের দ্বারাই পরিচালিত। আমরাই খরিদ্দার আবার আমরাই বিক্রেতা। এখানে কেউ কেউ খুব তাড়াতাড়ি বড় লোক হওয়ার জন্য আসে। এটা মোটেই ঠিক নয়।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার ওপর আপনারা বিশ্বাস করবেন। কিন্তু বিশ্বাসের ওপর ভর করে বিনিয়োগ করবেন না। জেনে এবং বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করবেন। আমরা সবাইকে বিজয়ী করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করব এবং যারা বিনিয়োগ করবে তাদের বিজয়ী করব। এই বাজারে আমরা কেউ কারও শত্রু নয়।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমি অবাক হয়ে গেলাম। পত্রিকায় আমার ছবি ছাপা হচ্ছে। আমার কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে গেছে। আমার কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে আমার কী লাভ। কোম্পানি তো শেয়ার বিক্রি করে না। যদি বিক্রি করে সেটা ক্ষতিকর। অনেক কোম্পানি এমন আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর বিশ্বাস করে প্রচুর বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করেছেন। তাদের ওপর আস্থা রেখে আমি কিন্তু শেয়ার বিক্রি করতে পারিনি। আমার শেয়ার দাম ৩ হাজার টাকা হয়েছিল। আমি কয়েক হাজার কোটি টাকা মার্কেট থেকে নিতে পারতাম। আমি একটা শেয়ারও বিক্রি করিনি। পরবর্তীতে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে অনুমতি নিয়ে আমার সব শেয়ার বিক্রি করেছি। আমি চাইলে অনেক প্রফিট করতে পারতাম। এটা কিন্তু অন্যায়’

তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য মিথ্যা রটিয়ে আরেকজন ফেলো ক্লায়েন্টকে ঠকাই। নিজের পরিবারের সদস্যের মতো আরেকজন ব্যবসায়ীকে ঠকাই। এটা ঠিক না।

বিনিয়োগকারীদের যাকাত দেয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যাকাত দেন না। যাকাত না দিলে বাজার কীভাবে বড় হবে। আপনাদের টাকা কীভাবে হালাল হবে। আপনারা যাকাত দেন।

তিনি বলেন, লাভবান হতে কিছু কিছু মানুষ আছে কান কথা বলে। মিথ্যা কথা বলে। এটা না করে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে লাভবান হতে হবে। অর্থনীতির সঙ্গে লাভবান অটোমেটিক্যালি হবেন। আমাদের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজার একসঙ্গে গাঁথা। শেয়ারজারকে বাদ দিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো আসাদুল ইসলাম, কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী,ড.স্বপন কুমার বালা এবং বিচারপতি কামালুজ্জান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন।

সান বিডি/এসকেএস