ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চায় বাংলাদেশ
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৪-০২ ১৬:১৬:১৫
ভুটান ১ হাজার ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দর্জিলাং হাইড্রোপাওয়ার সেন্টার (জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে । দেশটির লক্ষ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিদ্যুৎ রফতানি করা। আর এ প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ। চলতি মাসে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিংয়ের ঢাকা সফরকালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে একটি সমঝোতার প্রস্তাব উত্থাপন করবে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ১২ এপ্রিল ঢাকা সফরে আসবেন। তার সফরের প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। এর উল্লেখযোগ্য হলো বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, আঞ্চলিক সহযোগিতায় ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি, বিশেষ করে বিবিআইএনের (বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল) অগ্রগতি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, পর্যটন উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাত, কৃষি খাত ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ, ভুটান ও ভারত তিন দেশেরই আগ্রহ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এটি নিয়ে সমঝোতা হলে এরপর তিন দেশের বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টরা এটি নিয়ে আলোচনায় বসবেন। তবে প্রকল্পটিতে বিনিয়োগে বাংলাদেশের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সূত্র জানায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈঠক করছেন। গত মাসে দুই দেশের মধ্যকার পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ভুটানের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করে। তারা পণ্য পরিবহনের সম্ভাব্য রুটগুলো যাচাই করে দেখছে।
প্রসঙ্গত, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। লোতে শেরিং এমবিবিএস পাস করে বাংলাদেশেই জেনারেল সার্জারি বিষয়ে এফসিপিএস করেন। পরে দেশে ফিরে ২০১৩ সালে তিনি সিভিল সার্ভিস থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি প্রায় ১০ বছর বাংলাদেশে কাটিয়েছেন।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














