পাহাড়ের পরিবেশ সুরক্ষায় বনমন্ত্রীর নির্দেশ

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৪-০৭ ১২:২৫:০৬


নবীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলা কাটার মহোৎসব চলছে। অতিরিক্ত পাহাড় কাটার ফলে এ এলাকায় পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে প্রশাসন। পারিবারিক টিলা কাটায় পুলিশ অবৈধ হস্তক্ষেপে তৎপর হলেও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নীরব রয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনও অনেকটা নির্বিকার। মিডিয়ার সরব ভূমিকায় অনুসন্ধান শুরু করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এ খবর নিশ্চিত করেন মন্ত্রীর এপিএস মো. আব্দুল মতিন। পরিবেশ সুরক্ষায় আপোষহীন এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী আলহাজ শাহাব উদ্দিন এমপির নির্দেশনায় এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ও দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাহাড়ি জনপদখ্যাত দিনারপুর পরগণায় চলছে পাহাড় ও মাটি কাটার মহোৎসব। ফলে টিলা ধসের ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটে। রাতের আঁধারে টিলা কাটতে গিয়ে একাধিক শ্রমিক ভূমি ধসে নিহত হয়। এ নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে প্রভাবশালী মহল। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে পাহাড়ি জনপদের লোকজন। মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি ভিত্তিতে মাটি ও বালু বিক্রি করছে বিশেষ একটি চক্র। এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশনাকেও আমলে নিচ্ছে না। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরব হচ্ছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আলহাজ শাহাব উদ্দিনের নির্দেশনায় এ নিয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।  যেকোনো মূল্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে নজরদারি শুরু হয়েছে। অবাধে মাটি ও বালু বিক্রির ফলে বিলীন হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বনের পশু লোকালয়ে আসতে শুরু করেছে। শতাধিক সরকারি ও মালিকানাধীন টিলা কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে টিলা ধসে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে জনপদের লোকজন। বিলীন হচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রকাশ, বিগত ২০০১ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ওই সময় থেকেই মাটি ও বালু বিক্রির জন্য দিনারপুর অঞ্চলের পাহাড় কাটার ধুম পড়ে। টিলা কেটে উজাড় করে মাটি নেয়া হয়। ভূমি ধসে বর্ষা মৌসুমে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসবের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। রাস্তা-ঘাট এবং বিভিন্ন কোম্পানির ফ্যাক্টরি নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাহাড়ি টিলার মাটি ও বালু ব্যবহার করছে। নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে অশুভ শক্তি। এসব পাহাড়ি টিলার মাটি কেটে তৈরি হচ্ছে শখের বাগান বাড়ি। এ ছাড়াও সমতল ভূমি বিক্রির চুক্তি বাস্তবায়নের নিমিত্তে দ্রুত গতিতে অতি অল্প মূল্যে মাটি ও বালু বিক্রি হচ্ছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কর্তৃক হামলা ও মামলার ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ অনেক জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতা। এ নিয়ে অজানা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। জনৈক কবির, রহমত ও শাহ সমুজ মিয়া বলেন, দিনারপুর পরগণা এখন ভূমি দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দিন-রাত চলছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য।

এ এলাকার মাটি আর বালু বিক্রির পর সমতল ভূমিও বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি হচ্ছে। দিনারপুর পরগণার জঙ্গল প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। পাখির কলরব থমকে গেছে। হিংস্র পশু অনেকটা লোকরণ্যে বিচরণ করছে। সরকারি বিধিবিধান কেউ মানছে না। পাহাড়ি জনপদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।