হাওরের কৃষকরা মেঘ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৭ ১৫:২৩:২৫
আকাশে কালো মেঘ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কিশোরগঞ্জে হাওরের কৃষকরা। কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা। হাজার হাজার হেক্টরের বিস্তীর্ণ হাওরে এখন ধানগাছের আগায় উঁকি মারছে অপুষ্ট ধানের ছড়া। ১৫-২০ দিনের মধ্যে পেকে সোনালী রঙ ধারণ করবে এ ধান।
কয়েক দিন আগে কিশোরগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পরেই হাওরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু জমিতে দেখা দিয়েছে চিটা। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান সংগ্রহ নিয়ে সেখানে দেখা দিয়েছে সংশয়।
হাওরবেষ্টিত ইটনা উপজেলার পূর্বগ্রাম, লাইমপাশা, বাদলা, থানেশ্বর, মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া, চারিগ্রাম, ঢাকি, মহিষাকান্দি, অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল, দেওঘর, বাংগালপাড়া ও আদমপুর, নিকলী উপজেলার ছেত্রা, ছাতিরচর, সিংপুর, দামপাড়া ও গুরুই এলাকার কৃষকরা জানান, এবার হাওরের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি নেই। ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার।
তারা বলেন, প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে জমিতে গিয়ে দেখভাল করছি। এবার সময়মতো সেচ, সার ও কীটনাশক দিতে পেরেছি। তাই এবার ভালো ফলসের আশা করছি। এভাবে ঝড়-বৃষ্টি হতে থাকলে বাঁধ ভেঙে না আবার সর্বনাশ হয়ে যায়। এরই মধ্যে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কিছু ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু জমিতে আবার দেখা দিয়েছে চিটা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজারে এবার ৯ লাখ ২১ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন চাল।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানান, বোরো আবাদে কৃষকরা এবার দলবেঁধে মাঠে নেমেছেন। চাষাবাদের উপযোগী কোনো জায়গা খালি নেই। গত কয়েক দিনের ঝড় ও শিলাবৃষ্টি বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তাদের আশা পূরণ হবে।
তিনি জানান, কিশোরগঞ্জে এবার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩১৭ হেক্টর ভূমিতে ধান রোপনের লক্ষমাত্রা ছিল। বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ হেক্টর ভূমিতে । আমাদের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমি আবাদ হয়েছে।’






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













