নারীদের করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ করার দাবি: ওয়েন্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৭ ২১:৪৭:৫৬
নারীদের করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন ওমেন এনটারপ্রিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (ওয়েন্ড) । এতে নারীদের উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন ওয়েন্ড এর প্রেসিডন্টে ড. নাদিয়া বিনতে আমিন ।
আজ রবিবার রাজধানী এনবিআর সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট নিয়ে আলোচনা এক সেমিনারে অর্থবছর ২০১৯-২০ বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর এর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ।
ওয়েন্ড এর প্রেসিডেন্ট নাদিয়া বিনতে আমিন বলেন, বর্তমানে নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে কোনো নারী লোন নিলে তাতে তার স্বামী নমিনি নিতে চাননা । কর্মক্ষেত্রেও তারা বিভিন্ন ভাবে অবমূল্যায়িত । ধর্মীয় গোরামি তো আছেই । যেহেতু বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী , কাজেই তাদের কে পরিহার করে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব না । তাই নারীদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে তিনি বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন ।
দাবিসমূহ:
* ১(এক) কোটি টাকা পর্যন্ত টার্ন ওভার রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের শূন্য হারে ভ্যাট অব্যহতি দেওয়া ।
* প্রচলিত করমুক্ত আয়সীমা তিন লক্ষের পরিবর্তে পাঁচ লক্ষে উন্নতি করা ।
* কর্পোরেট করহার সব পর্যায় থেকে আগামি তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে ৬,৭ ও ১০ শতাংশ হারে কমানো ।
* এবং নারী উদ্যোক্তাগনের জন্য এ হার ৫%-১০% ধার্য করা ।
এগুলু বাস্তবায়ন হলে হয়তো নারী উদ্যোক্তার বিকাশ সৃষ্টি হবে । নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে । নতুন নতুন শিল্প স্থাপন হবে । যাতে করে রাজস্ব আদায় বাড়বে ।
অন্যদিকে তাদের পরামর্শমূলক বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ১০ টাকার সিগারেটে ৫ টাকা ভ্যাট ধার্য্য করতে হবে । ধোঁয়া বিহীন তামাক বিলুপ্ত করা । তামাক মূল্যের ওপর সম্পুরক কর আরোপ করা । সকল তামাক কোম্পানিকে করের আওতায় নিয়ে আসা । ই সিগারেট উৎপাদন ও আমদানি নিষিদ্ধ করা ইত্যাদি ।
অনুষ্ঠানে (এমসিসিআই) বলেন, বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের বেশি উন্নতি ব্যহত হবে যদি না কিছু পদক্ষেপ কার্য করা না হয় । কৃষি ও শিল্পের দিকে নজরদারি বাড়াতে হবে । বদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের জন্য উদার বরাদ্দ থাকা উচিত । ব্যাংক ব্যাবস্থাপনার দিকে নজরদারি বাড়ানো । তারল্য সংকট দূর করতে হবে । ঋনখেলাপির ব্যাপারটিও বিশেষ নজরদারিতে আনা উচিত । (পিপিপ) প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নে অগ্রগতি আনতে হবে ।
২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে (বিসিসিআই) কিছু সুপারিাশমালা দিয়েছে, যা বাংলাদেশ ও চীন এর বানিজ্যিক উন্নতি হবে বলে মত প্রকাশ করছেন । তাদের মতে, চীন বাংলাদেশের পরম বন্ধু । বাংলাদেশে আমদানির বেশির ভাগ পণ্যই আসে চীন থেকে । এছাড়া চীন বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে আসছে । পদ্মা সেতু বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ । তাই চীনের সাথে বাংলাদেশের আমদানি রপ্তাণি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ট্যাক্স কিছুটা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে । যেমন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম আমদানি শুল্ক-১০% থেকে -৫% আনা । শেভিং সামগ্রী সম্পূরক ১৫% থেকে ০% আনা । বলপয়েন্ট এর মূসক ১৫% থেকে ০% আনা । এছাড়া বিভিন্ন পণ্য সামগ্রি ও ইলেট্রিক পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমানোর প্রস্থাব করেন ।
তবে, প্রশ্নর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তারা এবারের বাজেটে শিল্পকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন । কারন প্রধানমন্ত্রীর ভিষন ২০২১ মোকাবেলা করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই বাজেট। তাই শিল্পায়ণে বিশেষ সুযোগ থাকছে । তবে নারীদের ব্যাপারে বেশ কিছু সুযোগ আসছে এই বাজেটে । বিনিয়োগের জন্য নারীদের কে ২৫ লাখ টাকা দেয়ার বিধিটি কার্যকর করা । নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিশু বৈষম্যের ব্যাপারটি বিবেচনা কমিয়ে আনা । কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো । নারী উদ্যোক্তা সংখ্যা বাড়ানো ।
এছাড়া তিনি দাবি করেন যেহেতু আমরা অর্থনীতিতে ব্যাপক সফল হয়েছি, সেহেতু আমাদের করের পরিধি আরও বাড়ানো উচিত । ব্যবসায়িরা ব্যবসায় উন্নতি করলে কর দিতে সংশয় বোধ করার কথা না ।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














