ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ প্রকল্পে বাধা
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৮ ১০:৫২:৪৫
ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ভারতের কাছ থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি এনে বাংলাদেশ তা ভোক্তাদের মধ্যে বিক্রি করবে- এর প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে ভারতের একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান। ৩৬০ কোটি রুপির পাইপ লাইনের এই প্রকল্প আগামী ২৭ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এমন আবেদনের পরে প্রকল্পটি কোন দিকে যায় তাই এখন দেখার বিষয়। এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-বাংলাদেশে ফ্রেন্ডশিপ প্রোডাক্ট পাইপলাইন (আইবিএফপিএল)। কিন্তু এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে টেকনিক্যাল আপত্তি উত্থাপন করেছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান হিরানন্দানি গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এইচ-এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড।
তারা ভারতের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ডে (পিএনজিআরবি) এই আপত্তি দিয়েছে।
এতে তারা বলেছে, এই প্রকল্পের ভোক্তা বা কাস্টমার হলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তাদের জন্য এই ‘ডেডিকেটেড পাইপলাইন’ প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বিপিসি হলো বাংলাদেশে পেট্রোলজাতীয় জ্বালানির বাজারজাতকরণ ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ফলে এই কোম্পানিটি সরবরাহ করা জ্বালানি আবার ফের বিক্রি করবে। তাই প্রস্তাবিত এই পাইপলাইন প্রকল্পটি ‘ডেডিকেটেড পাইপলাইনের’ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। পিএনজিআরবি কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতির যেসব ধারা আছে তার অধীনে এই প্রকল্পকে ‘ডেডিকেটেড পাইপলাইন’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এইচ-এনার্জি তার আপত্তিতে কর্তৃপক্ষের ১৯(২) নম্বর ধারার উল্লেখ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, একটি ডেডিকেটেড পাইপলাইন স্থাপন, বসানো, অপারেশন করানো অথবা বিস্তৃত করা হয় বিশেষ কোনো কাস্টমারের কাছে জ্বালানি সরবরাহ দেয়ার জন্য, তা বিক্রির জন্য নয়।
সূত্র বলেছেন, এইচ-এনার্জির উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা রয়েছে পিএনজিআরবি কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ১২৯.৫ কিলোমিটার। এর মাত্র ৫.১৬ কিলোমিটার পড়েছে ভারতের ভিতরে। বছরে এই পাইপ লাইন দিয়ে ১০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ দেয়ার কথা ভারতের। আর এ প্রকল্পে অর্থায়ন করার কথা আসামভিত্তিক বিডিসিএল-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের (এনআরএল)।
বাংলাদেশের প্রতি ভারত যে উন্নয়ন সহযোগিতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে তার অংশ এই পাইপলাইন। বর্তমানে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে রেল র্যাকের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ দেয়া হয়। তাই পাইপলাইনটি নির্মিত হলে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, স্থিতিশীল হবে এবং অর্থনৈতিক বান্ধব হবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














