হাজার হাজার শোকাহত মানুষ শেষ বিদায় জানালেন রাফিকে
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১২ ১০:০০:০১
মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের শিকার সন্তানের মরদেহ পিতার কাঁধে। এর চেয়ে কঠিন বোঝা আর কী হতে পারে। সেই কঠিন বোঝা বইতে হলো প্রতিবাদী মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বাবা এ কে এম মুসাকে। তাঁর সঙ্গে রাফিকে শেষবিদায় জানাতে শামিল হয় হাজার হাজার শোকাহত মানুষ।
তার আগে মেয়ের জানাজাও পড়ালেন মুসা। জানাজার আগে বলছিলেন, কখনো তিনি ভাবেননি মেয়ের জানাজা পড়াতে হবে তাঁকে। এ সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুসা।
এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মেয়ের লাশ নিয়ে সোনাগাজী রওনা হওয়ার আগে মুসা বলছিলেন, ‘এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি আমার মেয়ে হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।’
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গত শনিবার কৌশলে ওই মাদরাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল। তার পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার পক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে রাফিকে কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তার মা। দুর্বৃত্তরা রাফিকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়েছিল। সে রাজি না হওয়ায় তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। ওই দিনই রাফিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়।
সোনাগাজীর সরকারি ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যখন নুসরাত জাহান রাফির মরদেহ নিয়ে আসা হয়, তখন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল বিশাল মাঠটি। ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল জানাজায় অংশ নিতে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে জানাজার আগে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী লিপটন, সাবেক চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, সোনাগাজী পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
এর আগে সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ উত্তর চরচান্দিয়ায় রাফির বাড়িতে ভিড় জমায়। বিকেল ৫টার দিকে রাফির মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছিল। এখানে উপস্থিত নারীরা রাফিকে শেষবারের মতো দেখার জন্য ভিড় করে। কেউ চোখের জল আটকে রাখতে পারেনি। স্বজনদের আহজারি আর মানুষের কান্নায় বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সবার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি। সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় রাফির মরদেহ।
নিজের সন্তানের লাশ সবচেয়ে ভারী বাবার কাঁধে— এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বাবা এ কে এম মুসা। ফেনীর সোনাগাজীতে রাফির জানাজার আগে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














