রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

|| প্রকাশ: ২০১৫-১১-১১ ২১:৪৪:৫৪ || আপডেট: ২০১৬-০৬-২০ ১০:৪৯:৫৬

a lরাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার তেবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এনিয়ে এলাকার বিবদমান দুইপক্ষে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে সংঘর্ষের পর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, তেবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে বুধবার নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। একটি পদে আবেদনকারী ১১ প্রার্থীর দুইজন একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এরা হলেন, আওয়ামী লীগপন্থি মোজাম্মেল হক এবং বিএনপিপন্থি আফসার আলী।
মোজাম্মেল হকের পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তোফাজ্জলের গ্রুপ এবং আফসার আলীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইয়াছিন আলীর গ্রুপ অবস্থান নেয়। সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। মোজাম্মেল হকের সমর্থকরা স্কুলের পাশের চায়ের ষ্টলে অবস্থান নিয়েছিল। এ সময় আফসার আলীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় মোজাম্মেল সমর্থক রঘুনাথপুর শেখপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম (৪৬), সুখানদিঘীর যুবলীগ নেতা মাসুদ (৪২), পৌর মেয়রের চাচাতো ভাই যুবলীগ নেতা মাসুদ (৪২), মেয়রের ভাগ্নে ও যুবলীগ নেতা রবিন (৪০), যুবলীগ নেতা এনামুল হক (৩৮) এবং আফসার আলী সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন  (৪২), নারায়নপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল করিম (৪৯), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ভাসান আলী (৪৮) আহত হন।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপিপন্থী শিক্ষক আফসার আলীর সমর্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনের ছোট ভাই ধরমপুর ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মুন্না (২০) কলেজে আসলে পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেনের লোকজন মুন্নাকে মারপিট করে। এতে তিনিও আহত হন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষক মোজাম্মেলের চেয়ে সিনিয়র শিক্ষক আফসার আলী। তাই তার পক্ষেই সকল শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সাংসদের অনুমতি নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত  হয়।  কিন্তু পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন উস্কানি দিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। মেয়রের ভাই ভাগ্নেরা সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ করেন। এ ঘটনার জন্য সম্পূর্ন ভাবে মেয়র তোফাজ্জল হোসেন দায়ী। বিষয়টি সাংসদকে জানানো হয়েছে। পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করলে তা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আখতার জাহান বলেন, নিয়োগ নিয়ে সংঘর্ষের কারণে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থামাতে পুলিশ মোতায়েন সহ পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ মামলা দায়ের করেনি।