উত্তরবঙ্গে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব জাপানের

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৭ ১০:১৩:৪২


দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। সফররত জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) প্রতিনিধিরা এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

জাপানের রাষ্ট্রায়ত্তে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি নরসিংদী জেলার পলাশে বাস্তবায়নাধীন ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজেক্টে অর্থায়ন করছে। এই কারখানার মতো প্রস্তাবিত কারখানাটিরও উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন এবং বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার টন হবে বলে উল্লেখ করেছেন জেবিআইসির প্রতিনিধিরা।

জেবিআইসির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে বৈঠক করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকেই উত্তরবঙ্গে ইউরিয়া কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জেবিআইসির নিউ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ফিন্যান্স বিভাগের মহাপরিচালক ফুমিউ সুজুকি, উপদেষ্টা ইয়াসুয়ুকি ইয়ামাতু, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান প্রতিনিধি ইয়াসুকি কমিনামি, বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. আমিন উল আহসান এবং ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের পরিচালক মো. রাজিউর রহমান মল্লিক উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের শিল্প খাতে জেবিআইসির বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে ১৯৯০ সাল থেকে শিল্প খাতে বিনিয়োগ করে আসছে জেবিআইসি। এর মধ্যে কাফকো ফার্টিলাইজার প্রকল্প, ডিএপি ফার্টিলাইজার প্রকল্প এবং বিবিয়ানা গ্যাস ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তারা।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরো বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জেবিআইসি সবসময় পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই প্রযুক্তি প্রয়োগে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান সুষম আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

এছাড়া জেবিআইসি নরসিংদী জেলার পলাশে বাস্তবায়নাধীন ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজেক্টে (জিপিইউএফপি)’ অর্থায়ন করছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা পেলে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিল্প খাতে আরো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

জিপিইউএফপি বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৬০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে। বাকি ৮ হাজার ৬১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেবিআইসি এবং নিপ্পন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ইন্স্যুরেন্স (এনইএক্সআই) বিনিয়োগ করছে ৮৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার; ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক অব টোকিও মিত্সুবিশি ইউএফজি (বিটিএমআই) এবং হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)।

এদিকে নতুন সার কারখানা স্থাপনে জেবিআইসির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা মেটাতে সরকার উত্তরবঙ্গে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গে একটি সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে প্রাক-সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।