উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শিল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত জরুরি 

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০৪-২১ ১৪:৪১:৪৫


উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শিল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি  বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পসচিব মোঃ আবদুল হালিম। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে সুশাসন কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা পালন করে। সুশাসনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে তিনি জানান।

শিল্পসচিব আজ “উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের জন্য শিল্প কারখানায় জবাবদিহিমূলক আচরণ  শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। জাপানভিত্তিক এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) যৌথভাবে রাজধানীর একটি হোটেলে  এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লুৎফুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের পরিচালক এস.এম. আশরাফুজ্জামান এবং এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের শিল্পবিষয়ক প্রোগ্রাম অফিসার ড. জোসে এলভেনিয়া বক্তব্য রাখেন।

শিল্পসচিব বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে অব্যাহত সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘অসম্ভব অর্জনের দেশ’ হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০ সালে এদেশে যেখানে চরম দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৫ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে তা ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের নীচে নেমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোঃ আবদুল হালিম আরও বলেন, শিল্পখাতে ব্যাপকহারে দক্ষ ও সৃজনশীল জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সম্ভব। সেবা শিল্পখাতে এ ধরনের জনবল সৃষ্টি ও প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রয়াস উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। শিল্পসমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব সবুজ ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে গুণগত শিল্পায়নের পথে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং ৩ জন উৎপাদনশীলতা ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ নিচ্ছেন। এতে শিল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের মাধ্যমে উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।