সরকারের উৎসাহহীন, উচ্ছ্বাসহীন,উদ্যোগহীন প্রথম ১০০ দিন : সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০৪-২৩ ২০:৩২:০৫


উৎসাহহীন, উচ্ছ্বাসহীন,উদ্যোগহীন প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ  হলো সরকারের । নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচণী প্রচারণা করলেও সফলতা একেবারেই তলানিতে ।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নতুন সরকারের১০০ দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজতি মিডিয়া  ব্রিফিংয়ে  প্রতিষ্ঠানটির  ফলো  দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এইসব মন্তব্য করনে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

দেবপ্রিয় বলেন, ‘নতুন সরকার যখন আসে তখন সে বিগত সময়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেয়। তবে সেই উদ্যোগটা তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি । আমি মনে করি সাম্প্রতিক কালে যত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশিত  হয়েছে আওয়ামী লীগের এই নির্বাচণী ইশতেহার একাদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ ইশতেহার সব থেকে সুলখিতি এবং সুগঠতি। যা অন্যান্য বছররে নির্বাচণী প্রচারণা  থেকে ভিন্ন ।

তিনি বলেন, ‘সরকারের বিগত ১০০ দিন আমরা একটি উৎসাহহীন, উদ্যোগহীন, উচ্ছ্বাসহীন এবং একই সঙ্গে উদ্যমহীন দেখেছি। অথচ আমরা আশা করে ছিলাম এটি একটি বড় ধরনের ১০০ দিনের উত্থানের ওপর প্রতিফলিত হবে  । এটা আমরা লক্ষ্য করিনি ।আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি গতানুগতিক ধারাবাহিকতা।

‘বরং যে ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখেছি, সে ধরনরে উদ্যোগ মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে । যেমন, আমরা লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন কর ছাড় দেয়া  হচ্ছে। আমরা দেখেছি সুদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেয়া হচ্ছে । এগুলোর ফলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে আমরা মনে করি না। মনে হয় যেন কোথাও সরকারকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্টি তা থকেে লাভবান হচ্ছ।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি গণনার পদ্ধতি নিয়ে বলেন,

আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে দেখেছি প্রবৃদ্ধি নির্ভর র্অথনৈতিক আলোচনা। কেমন একটা প্রবৃদ্ধি আচ্ছন্নতা বা আকৃষ্টতা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি । অথচ র্অথনৈতিক তত্তের সাম্প্রতিক কালের চিন্তা দেখলে দেখা যাবে, সকলেই বলবে প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট না। এটা  অর্থর্নীতি শাস্ত্রের  জ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্টিত হযেছে ।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের যে ধারণা তার সঙ্গে নীতি প্রণয়নের ধারণার অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের যে ধরনের ভূমিকা সেটা আমরা দেখতে পাইনা। বাংলাদশেরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য যে ধরনের  কাঠামোগত সংস্কারের দরকার ছিল, সেগুলুর কিছু হয়নি। এই ১০০ দিনে আমরা আশা করেছিলাম অসঙ্গতিগুলো দূর করা যাবে।আমরা সে ধরনের সচেতনতাও দেখিনি,

দেবপ্রিয় বলেন, তার জন্য মান উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিককালে জনগণের জীবনমানের বিভিন্ন সূচকের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ঐক্যমত হয়েছে সেটিও প্রবৃদ্ধির বাইরে গিয়ে অনেক ধরনের পূর্ণাজ্ঞা ধারণাকে সামনে নিয়ে এসেছে ।  আমরা প্রবৃদ্ধি নির্ভর আলোচনা করি যেন, ওই পূর্ণাজ্ঞা  উন্নয়নের আলোচনা আমাদের মনোযোগের বাইরে চলে না যায়। সাম্প্রতকিকালে আমরা দেশের  ভেতর অর্থনৈতিক আলোচনায় এটার গুরুত্বর্পূণ প্রকাশ দেখিনি ।

তিনি বলেন, যদি আমরা ধরি যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে  সেটা সঠিকভাবে অনুমতিতে হয়েছে। তাহলে বিনিয়োগ যেহেতু বেশি হয়নি । সুতরাং প্রবৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দেখাতে হবে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এমন কী প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনীর রূপান্তর ঘটল যে শ্রমের  উৎপাদন ক্ষমতা এমন বৈপ্লবিকভাবে গেল! এটা আমাদের এখন ভালো করে চিন্তা করে দেখতে হবে ।

আমরা সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি দেকি তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং অনেকের কাছে র্ঈষণীয়। তবে যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তাতে ব্যাক্তিখাতের বাড়তি কোনো ভূমিকা  আমরা দেখিনা। এই উন্নয়নের জন্য যে ধরনের কর আহরণ দরকার তা আমরা দেখলাম না। ব্যক্তিখাতে যে ধরনের  ঋণপ্রবাহ বাড়ার কথা তা আমরা দেখলাম না। পুঁজিপণ্যের আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে । সেই সঙ্গে ব্যাংকখাতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ধরনের  চাঞ্চল্য থাকে তা-ও দেখলাম না। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে ধরনের চলক থাকে সে চলকগুলোর প্রতিফল কিন্তু আমাদের কাছে ধরা পড়ছে না।

যদি আমরা ধরি যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেটা সঠিকভাবে অনুমিত হয়েছে। তাহলে বিনিয়োগ যেহেতু বেশি হয়নি । সুতরাং প্রবৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দেখাতে হবে । গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এমন কী প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনীর রূপান্তর ঘটল যে শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতা এমন বৈপ্লবিকভাবে  বেড়ে গেল ! এটা আমাদের এখন ভালো করে চিন্তা করে দখতে হবে ।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রবৃদ্ধির অনুমিতি সঠিক  হোক এবং সেটা থেকে যে ধরনের তাৎপর্য আসে সেটা যেন  বাংলাদেশের নীতিকে সঠিকভাবে আগামি দিনে পরিচালিত করে।

দেবপ্রিয় বলেন,সরকারের দুর্বল দিকগুলু হলো অর্থ পাচার বন্ধে সরকার ব্যার্থ, দুর্নিতী শুন্য হারে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দুর্নিতী অনেক বেশি ।

তিনি বলেন, সরকারের ব্যায়ের খাতগুলু ইতিবাচক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি, বিশেষ ইকনোমিক জোন কার্য্যকর ভাবে চালু এবং পুরনো ও বন্ধ কারখানাগুলু সরকার চালু করেছে । এছাড়া মানি লন্ড্রারিং বন্ধ ও বৈদেশিক দ্বিপাক্ষিক বানিজ্য চুক্তি কে সরকারের ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি, তবে তা বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকার সফল হবে ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডি’র  সিনিয়র কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ ।

সানবিডি/ এমএফইউ