২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যহতি চায় পোল্ট্রি শিল্প উদ্যোক্তারা
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৪-২৩ ২০:১৮:০৪
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়ার জন্য দাবি করছেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমিতি।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানান বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমিতি।
এসময় প্রাক বাজেট আলোচনায় ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোতে পোল্ট্রি ও ফিস ফিড তৈরির অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল নিজ দেশে উৎপাদিত হওয়ার পরও খামারিদের ভর্তুকী দেয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে ভূট্টা, সয়াবিন মিল, ঔষধসহ বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি-নির্ভর হওয়া সত্ত্বেও এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। যা সাধারন ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার করা হচ্ছে ।
কর অব্যহতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
পোল্ট্রি শিল্প সংশ্লিষ্টরা ২০২৫ সালের মধ্যেই মাংস ও ডিম রপ্তানী শুরু করতে চান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চান। তাই আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত পোল্ট্রি শিল্পের উপর আরোপ করা সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর থেকে অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি।
শাহজাহান বলেন, জাতিসংঘের হিসাব মতে দেশের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি ৭৭ লাখের ওপরে। সে হিসাবে দেশের ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার। দেশিয় পোল্ট্রি শিল্প গড়ে না উঠলে প্রতিবছর সরকারকে এই বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হতো ডিম ও মুরগির মাংস আমদানির পেছনে।
শাহজাহান বলেন, সরকার চাচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের বার্ষিক উৎপাদন ৯০ থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ১০৪টিতে এবং মাংসের উৎপাদন ৬.৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ কেজিতে উন্নীত করতে। সেটি করতে হলে ঠিক এই মুহুর্তে চাহিদা ও যোগানের যে চিত্র তাতে বছরে অন্তত ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ ডিম এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার টন মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর যদি পোল্ট্রি শিল্পকে রপ্তানীতে যেতে হয় তাহলে বছরে অন্তত ১২০০ কোটি ডিম ও ৮ লাখ টন মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মিট এন্ড বোন মিলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ভেজিটেবল সোর্স থেকে উৎপাদিত প্রোটিন মিল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে। তাই সব ধরনের ভেজিটেবল প্রোটিন ও ভেজিটেবল সোর্স থেকে উৎপাদিত প্রোটিন মিল/প্রোটিন কনসেনট্রেট, সি-ফুড মিল, ক্র্যাব মিল, পোল্ট্রি মিলের আমদানি শুল্ক শূন্য করার দাবি যানা্চ্ছি।
শাহজাহান বলেন, ভূট্টা আমদানির ওপর থেকে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, সয়াবিন অয়েল কেক আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, কাসাব আমদানিতে ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ এআইটি ও ৫ শতাংশ এটিভি, কটনসিড মিল ও পাম কারনেল মিল ওপর ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ।
এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করব। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আসলে ভ্যাট মওকুফ করা যাবে কিনা। আর ভ্যাট মওকুফ করলে আসলে প্রান্তিক খামারীরা সুবিধা পাবেন কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসলে এবারের বাজেট হবে বড় তবে সেটি উন্নয়ন ও বানিজ্যভিত্তিক । তবে আমরা সার্বিক দিক বিবেচনা করতে হবে । তবে আমরা এবার রাজস্ব আয়ের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছি ।ব্যবসায়ীদের দিকটিও আমরা বিবেচনা করছি ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর এর সিনিয়র কর্মকর্তা ।
সানবিডি/ এমএফইউ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














