১২ দফা দাবিতে গণঅনশনে বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজার ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৪-২৯ ১২:১৬:৪০


১২ দফা দাবি আদায়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিকী গণঅনশন বসেছেন বিনিয়োগকারীরা। এর আগে পুঁজিবাজারে পতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হলেও এবারই প্রথম প্রতিকী গণঅনশনে বসেছেন বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে ১২ দফা দাবি নিয়ে ‘পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে এই প্রতিকী গণঅনশন শুরু হয়। যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ বলেন, দরপতনের প্রতিবাদে আমরা নিয়মিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে আসছি। কিন্তু পতন ঠেকাতে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই প্রতীকী গণঅশন করছি। দাবি মানা না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও জানান মিজান উর রশিদ।

বিনিয়োগকারীরা যে ১২ দফা দাবি নিয়ে গণঅনশনে বসেছেন সেগুলো তুলে ধরা হলো : যে সমস্ত কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করেছে এবং করবে-ওই সমস্ত কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে হবে। জেড গ্রুপের এবং ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) মার্কেট বলতে কোনো মার্কেট থাকতে পারবে না; দুর্বল কোম্পানির আইপিও প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে; খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে; ২সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যে সকল কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ব্যক্তিগত ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই সেসব উদ্যোক্তা পরিচালকদের ও কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে; পুঁজিবাজারে অর্থের জোগান বৃদ্ধির জন্য সহজ শর্তে ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে, যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে ৫ শতাংশ হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে; পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে বাধ্য করা এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে এবং মেয়াদ না বাড়িয়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে উন্মুক্ত ফান্ডে রূপান্তর করতে হবে; পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে; ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫ বাস্তবায়ন ও বাইব্যাক আইন চালু করতে হবে; আইপিওর শেয়ারে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ৮০ শতাংশ কোটা দিতে হবে; ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোনের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিপরীতে বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ নামে বিকল্প স্টক এক্সচেঞ্জ করতে হবে। এর ফলে কারসাজি বন্ধ করা যাবে।

এর আগে রোববার বিক্ষোভ করেছে পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ‘সিংহ ও ছাগল’ গ্রুপ বলে অপমানজনক কথা বলায় অবিলম্বে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা বলেন, অর্থমন্ত্রী যে ধরনের কথা বার্তা বলেছেন তা পাগলের প্রলাপের ন্যায়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। সেখানে অর্থমন্ত্রী হয়ে তিনি কিভাবে পুঁজিবাজারকে “সিংহ-ছাগলের” খেলা বলেন! এখানে তিনি কি বুঝিয়েছেন? অর্থমন্ত্রীর এরূপ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

সান বিডি/এসকেএস