বাজেটের আগে বিএসইসিতে পরিবর্তন চান মেনন
পুঁজিবাজার ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৪-২৯ ১৫:৫০:১৭
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিবর্তন চান ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। সোমবার বিনিয়োগকারীদের গণঅনশনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে তিনি এ দাবি জানান।
রাশেদ খান মেনন বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান যদি আইন ভঙ্গ করে থাকে; তাহলে পুঁজিবাজারে সু-শাসন আসবে কী ভাবে। কারা এই আইন ভঙ্গে সঙ্গে জড়িত; তাদেরকে চিহ্নত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবী জানান তিনি।
পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মেনন বলেন, আপনি বলেছেন পুঁজিবাজার সিংহ ছাগলের খেলা। এখানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যদি ছাগল হয়, তাহলে তাদের রক্ষার দায়িত্ব সরকারের।
অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মেনন বলেন, আপনি বলেছেন আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে। কিন্তু কতটা থাকবে, সে বিষয়ে সবাইকে অবগত করুন। অন্যদিকে বিগত কয়েক বছর আইপিও’র মাধ্যমে টাকা নিয়ে কী করেছে? তা তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের একদম শেষ দিকে পুঁজিবাজারে ধস শুরু হলে খুবই দ্রুতগতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুনর্গঠন করা হয়েছিল। ২০১১ সালের ১৫ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নিয়োগ পান নতুন চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে, বাজার হবে স্থিতিশীল। তারপর ৯ বছর চলে গেছে।
আইনে বলা আছে, বিএসইসির চেয়ারম্যানের মেয়াদ হবে চার বছর এবং আরেকটি মেয়াদের জন্য পুনর্নিয়োগ পাবেন। সে হিসাবে এই পদে তাঁর থাকার কথা আট বছর। কিন্তু তিনি আছেন নয় বছর ধরে। প্রথমবার তিন বছর, এরপর চার বছর এবং সর্বশেষ দুই বছরের জন্য তিনি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
এই নিয়োগ নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। শুরুতে চেয়ারম্যানের পদটি ছিল তিন বছর মেয়াদের। ২০১২ সালে আইন সংশোধন করে মেয়াদ চার বছর করা হয়। এতে তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চার বছরের জন্য আবার নিয়োগ পান এম খায়রুল হোসেন। দুই দফায় সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর তাঁর শেষ কর্মদিবস হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ১৪ মে। কিন্তু তার আগেই সরকার তাঁকে আরও দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেয়। এ সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত দেশে ছিলেন না। দেশে ফিরে এভাবে নিয়োগের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন, অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় চিঠি চালাচালি করেছে অন্তত চার মাস। কিন্তু বৈধতা প্রশ্নে সরকারের কোনো দপ্তরই এর সমাধান দেয়নি। কিন্তু নিয়োগ পেয়ে ঠিকই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। একই পদ্ধতিতে কমিশনারের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













