পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজী বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্তে সরকার

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৪-৩০ ১৭:৫২:০৯


পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজী  বন্ধের জন্য সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি।তিনি বলেন, অভিযোগ রয়েছে বিশেষ বিশেষ সময়ে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজীর কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য স্তিতিশীল রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি বিভাগীয় কমিশনারকে এ বিষয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাগণ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যাতে রমজান মাসকে সামনে রেখে কেউ চাঁদাবাজী বা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করার সুযোগ না পায়।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ভোক্তা। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে। সবাই সতর্ক হলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা কাউকেই চাঁদাবাজী বা কোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ দিতে চাই না। ভোক্তা যাতে ন্যায্য মূল্যে নিরাপদ ও মান সম্পন্ন পণ্য পান, সে জন্য সরকার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি আজ (৩০ এপ্রিল) ঢাকায়  বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সরক্ষণ অধিদফতর আয়োজীত বিশ্ব ভোক্তা দিবস এর আলাচনা সভা (২ মে) আয়োজন উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্সে  এ সব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে। দেশের সকল জেলা. উপজেলা ও ইউনিয়নের  ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় সরকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। ভোক্তাকে অধিক সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব। কনজিউমারস এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোন ভোক্তা অধিকার বঞ্চিত হয়ে অভিযোগ করলে এবং অভিযোগ প্রমানিত হলে অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫% নগদ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এর মধ্য থেকে অভিযোগকারীকে ৮১ লাখ ৩০ হাজার ৩০২ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিসিবি খোলা বাজারে ন্যায্য মুল্যে পন্য বিক্রয় শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। পণ্যের মজুত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোন পণ্যের সংকট হবে না। বিগত দুই বছরের তুলনায় এবার অনেক পণ্যের মূল্য কম আছে। সারা বছর পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক থাকবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্করউপস্থিত ছিলেন।