ঢেপা নদীর দৈন্যদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০৫-০১ ১৯:৩০:২৫


দেশের কৃষিজ ফসলের অন্যতম ভান্ডার উত্তরের জনপদ দিনাজপুর।এই জেলার ভিতর দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট-বড় অনেকগুলো নদী। তবে সেসকল নদীর অনেকগুলোই গ্রীষ্মকালে হয়ে ওঠে মৃতপ্রায়।

দিনাজপুর জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঢেপা নদী।জেলার কৃষিজ অর্থনীতিতে এই নদীর গুরুত্ব অপরীসীম। শুষ্ক মৌসুমে এই নদীতে গিয়ে দেখা যায় নদীর স্বাভাবিক কোন স্রোত নেই।মাঝে-মাঝে কোন অংশে ছোট- ছোট জলাধার।নদীর বিস্তৃণ অঞ্চলজুড়ে শুধু বালু আর বালু।

অথচ এক দশক আগেও শুষ্ক মৌসুমে এই নদীতে কল-কল শব্দে মাথা পরিমাণ জল নিয়ে স্রোত বয়ে যেত।নদীর দুপাশ জুড়ে দেখা যেত মনোমুগ্ধকর কাশবন।কাশবনের ভিতর দেখা যেত বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ওড়াওড়ি।এখন নদীর তীরে বসবাসকারী অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।এছাড়া আরো কিছু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে।সেসময় নদীতে পাওয়া যেত বিভিন্ন প্রজাতির হরেক রকমের মাছ। নদী তীরবর্তী জেলেরা নদী থেকে সেসব মাছ আহরণ করে জীবীকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন নদীতে পানি না থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এবং অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরাও তাদের চিরাচরিত পেশা ত্যাগ করে অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

জানতে চাইলে জিতেন নামের একজন জেলে সানবিডি প্রতিনিধিকে জানান,‘আগে নদীত পানি ছিল বেশী,তখন নদীত হামরা মাছও পাইছিনু বেশী,মাছ বেচিয়া সংসার চালাইছিনু কিন্তু এখন নদীত পানি নাই, মাছও নাই,তাই জাল থুইয়া মাইনষের জমিতে কাজ করি সংসার চালাবার নাগেছে।’

নদীর ছোট-ছোট জলাধারগুলোতে রাতের বেলা বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে মাছ নিধন করছে দুর্বৃত্তরা।এছাড়া এসব খালে বিভিন্ন পঁচা আবর্জনা ফেলে পানি দূষিত করছে বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীরা।ঢেপা নদীর উপর অবস্থিত কান্তনগর ব্রীজের উপরে গিয়ে দেখা যায় সেখান থেকে ব্রীজের নিচের স্রোতবীহীন জলাধারটিতে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন পশুপাখির অবাঞ্ছিত আবর্জনা।এতে পানি দূষিত হয়ে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

নদীতে পানি না থাকায় এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপরে।তাপমাত্রার পরিমান বেড়ে যাচ্ছে।হুমকির মুখে পড়ছে প্রাণীকূলের বাস্তুসংস্থান।হারিয়ে যাচ্ছে নদীর তীর জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ।এই নদীর পাশের কৃষি জমিগুলোতে নদী থেকে সেচ দেওয়া হত।কিন্তু এখন নদীতে পানি না থাকায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে।এর ফলে নদী তীরবর্তী কৃষকদের জমিতে সেচ দিতে দারুন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

নদীতীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই নদীটিতে ড্রেজিং অথবা অন্য কোন উপায়ে স্বাভাবিক স্রোতধারা  ফিরিয়ে আনবেন।নদী ফিরে পাবে তার পুরোনো যৌবন।এবং নদীতে সকল ধরণের বর্জ্য নিক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সানবিডি/নুরুজ্জামান