নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স: খাদ্যমন্ত্রী

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০৮ ১৩:৫০:৪৯


চলমান পবিত্র রমজান মাসে দেশের আপামার জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এর জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সরকারের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, ‘জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্সে অবস্থান করবে। এটিই আমাদের প্রথম ও শেষ কথা।’

দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, জেলা উপজেলায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে রমজান উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য ও ভেজাল বিরোধী অভিযান এবং খাদ্য স্থাপনাগুলো মনিটরিং জোরদারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খাদ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন। তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকদের রমজান উপলক্ষে খাদ্য স্থাপনা ও বাজার পরিদর্শন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রমজান জুড়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশের কাঁচাবাজার, ইফতার বাজার, খাদ্য স্থাপনা, হোটেল রেস্তোরাঁয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় পরিদর্শক টিম গঠন করার মাধ্যমে নিয়ামত তদারকি করার নির্দেশ রয়েছে সরকারের। এর জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বিএসটিআই, পানিসম্পদ অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

সূত্র আরও জানায়, রমজানে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বস্তিবাসী, পোশাক শ্রমিক, হোটেল রেস্তোরাঁ, ও পথ খাবারের দোকান এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুপেয় নিরাপদ পানি সরবরাহ করতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর ও ঢাকা ওয়াসাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সুস্থ প্রাণি ও হাঁস-মুরগি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাই, প্রক্রিয়াকরণ এবং নিরাপদ মাংস সরবরাহ, পোল্ট্রি ডিম ও দুধের নিরাপত্তা রক্ষায় পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

এছাড়াও রমজানে আমদানি করা খেজুর, ফল, বিভিন্ন প্রকার পানীয়, মাছ, মাংস, ও মাংসজাত খাদ্য দ্রব্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি তদারকি জোরদার করারও নির্দেশ রয়েছে সরকারের। এর জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের সঙ্গে কাজ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  প্রয়োজনে যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় সে ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে সংস্থাগুলোকে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রমজানে কৃষিজাত খাদ্যপণ্য বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল অন্যান্য কৃষিজাত খাদ্যদ্রব্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। এর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সংশ্লিষ্ট থেকে নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনগুলোকে সহায়তা করবে। রমজানে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা একযোগে কাজ করবে। সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমেও প্রচারণা বাড়াতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর দেশের নাগরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ সংসদে পাস হয়। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা দিতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। আইনের আলোকে এবং গৃহীত উৎকৃষ্ট পন্থায় খাবার সব সময় এবং সবার জন্য সর্বোচ্চ সুরক্ষায় ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পৌঁছানো এ কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার জনসাধারণের এ অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রমে যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, জনবলের স্বল্পতার কারণে নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর বা কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের সুফল এখনও হয়তো দেশের শতভাগ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সমস্যা থাকবে না। আশা করছি, দেশের শতভাগ মানুষ সরকারের এই মহান উদ্যোগের সুফল পাবেন।