গুলিবিদ্ধ ১৭ শ ফিলিস্তিনির পা কেটে ফেলতে হবে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৫-০৯ ১৭:৫৮:৩০


গত এক বছরে অবরুদ্ধ গাজা এলাকায় ইসরাইলী সেনাবাহিনী যেসব প্রতিবাদী ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ১৭০০ জনের পা কেটে ফেলা হতে পারে বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

সংস্থাটি বলছে, স্বাস্থ্যসেবা তহবিল সংগ্রহ না হলে আগামী দুই বছরে এই অঙ্গচ্ছেদ হতে পারে পায়ে গুলিবিদ্ধ ফিলিস্তিনিদের।

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিন অঞ্চলে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী জেমি ম্যাকগোল্ডরিক সাংবাদিকদের বলেন, কেবল গত বছরেই সাত হাজার প্রতিবাদী ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করে ইসরায়েলি বাহিনী। এদের অনেকেই পায়ের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়।

জেমি ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, ‘গুলিতে আহতদের মধ্যে ১৭০০ জনের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। জটিল অস্ত্রোপচার না হলে আর হাঁটতে পারবে না তারা। আহতদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, ‘তাদের পুনরায় হাঁটার জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে অত্যন্ত গুরুতর এবং জটিল অস্থি পুনঃস্থাপন অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।’

এরইমধ্যে চলতি বছর শিশুসহ ১২০ জনের পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান এবং পূর্বপুরুষের ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের বিক্ষোভ শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। ওই বিক্ষোভে ৯৩ হাজার মানুষ আহত হয়। ইসরায়েল বলছে, বিক্ষোভ চলাকালে পায়ে গুলি করার কারণে সহিংসতা এড়ানো গিয়েছিল।

পা কেটে ফেলা বা অঙ্গচ্ছেদ এড়াতে অস্ত্রপচারের জন্য জাতিসংঘ চেষ্টা করছে ২০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহের।

অর্থায়ন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে। সেখানকার একমাত্র টিচিং হাসপাতালটিতে এখন গভীর ক্ষত সারাতে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কেননা,  অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি এড়ানোর মতো জটিল চিকিৎসা পরিচালনার সামর্থ্য নেই সেখানকার চিকিৎসকদের।