ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা পাচ্ছে না ট্যারিফ কমিশন

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১০ ১৬:০৫:১৫


রফতানি বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় জানার উদ্যোগে বারবার ব্যবসায়ীদের মতামত চেয়েও পাচ্ছে না বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। যদিও ব্যবসায়ীরা সব সময় নতুন বাজার সৃষ্টি ও নতুন পণ্য রফতানির উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে রফতানিতে প্রণোদনার দাবি রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

নতুন বাজারে যেতে বাংলাদেশের কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং নতুন পণ্য রফতানি বাড়ানোর জন্য কী করা দরকার তা জানার জন্য একটি সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। এজন্য দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ২৩ ব্যবসায়ী চেম্বারের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায় কমিশন। পরপর দুইবার ১৫ দিন করে সময় দিয়ে তথ্য চাইলেও কোনো যৌথ চেম্বার কমিশনের চিঠির জবাব দেয়নি। সর্বশেষ চিঠিতে গত ৭ মের মধ্যে তথ্য ও মতামত জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু একটি চেম্বার থেকেও জবাব আসেনি।

সূত্র জানায়, যৌথ চেম্বারের কাছে নতুন বাজারে রফতানিতে চ্যালেঞ্জ কী এবং কোন দেশে বাংলাদেশের কোন কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। যৌথ চেম্বারগুলোর সংশ্নিষ্ট ২৩টি দেশ ও তাদের আশপাশের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো চেম্বারই উত্তর দেয়নি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পণ্য রফতানি থেকে মোট আয় হয়েছে তিন হাজার ৯০ কোটি ডলার। এরমধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে দুই হাজার ৫৯৫ কোটি ডলার, যা মোট রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশ। অথচ চামড়া, পাট, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্য ও মৎস্য, শাক-সবজিসহ কয়েকশ’ প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্য রফতানি হয় বাংলাদেশ থেকে। আরও অনেক নতুন পণ্য ও নতুন বাজারের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি আবার প্রধানত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার বাজারের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা অনেক দিন ধরেই বলছেন, রফতানি আয়ে এক পণ্যের ওপর নির্ভরতা যেমন ঝুঁকির বিষয়, তেমনি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পথে বাধা। এছাড়া দেশের মোট রফতানি আয় জিডিপির অনুপাতে এখনও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম। বর্তমানে জিডিপির ১৫ শতাংশ পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য এ অনুপাত বাড়ানো জরুরি।

যেসব চেম্বারের কাছে ট্যারিফ কমিশন তথ্য চেয়েছিল সেগুলো হচ্ছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার, কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার, আমেরিকান চেম্বার, স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার, নর্ডিক চেম্বার, ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার, ইতালি-বাংলাদেশ চেম্বার, বাংলাদেশ-চীন চেম্বার, কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার, লাতিন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার, বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার, বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার, বাংলাদেশ-থাই চেম্বার, ডাচ-বাংলা চেম্বার, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার, ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার, কুয়েত-বাংলাদেশ চেম্বার, শ্রীলংকা-বাংলাদেশ চেম্বার ও তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার।

সূত্র:সমকাল