আগামী বাজেটে ৫৫ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ লাখ টাকা করে

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২১ ১১:৪৭:৫১


পরিকল্পনা কমিশনে আসা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এমন ৫৫টি প্রকল্প আছে, যেগুলোতে নামমাত্র টোকেন বরাদ্দ হিসেবে এক লাখ টাকা করে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) আসছে অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

৫৫ প্রকল্পে কেন এক লাখ টাকা করে নামমাত্র বরাদ্দ রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, অনেকগুলো কারণে এসব প্রকল্পে নামমাত্র টাকা রাখা হয়েছে। প্রথমত, এ বছর জুনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো তা করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, প্রাপ্যতা নেই। অর্থাৎ চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে টাকা দেওয়া হয়েছে ওই প্রকল্পের বিপরীতে, সেটিই খরচ করতে পারেনি। তাই আসছে বাজেটে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। যদি সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে সংশোধিত বাজেটে টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না। এতে বছরের পর বছর প্রকল্পের কাজ স্থবির থাকে। আবার কোনো কোনো প্রকল্প নেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। তখন মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়।

কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্য থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে নেওয়ার জন্য দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালে। রোহিঙ্গাদের এখন ভাসানচরে নেওয়া অনিশ্চিত। তাই আসছে বাজেটে এই প্রকল্পে নামমাত্র মাত্র এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা এ বছর জুনে। তাই প্রকল্পটি বাঁচিয়ে রাখতে আসছে বাজেটে এমন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পটি ২০১০ সালে অনুমোদন পেয়েছিল ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়নি। এই প্রকল্পটিও বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাজেটে এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, কোনো কোনো প্রকল্পে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দেওয়া যায় না। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রকল্পে নামমাত্র বরাদ্দ দেওয়া হয়, এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে ১০০ বছরের বেশি সময় লাগবে। এতে করে একদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে। টাকার পরিমাণও বাড়বে। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা (পিপিপি) মডেল চালুর পর এখনো সফলতার মুখ না দেখলেও আসছে অর্থবছরের এডিপিতে ৬২টি প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে। এসব প্রকল্প পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের আশা করছে সরকার। যদি চলতি বছর ও আগের বছরগুলোতে যেসব প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়নের জন্য রাখা হয়েছিল, সেসব প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। অবশ্য এ বছর পরিকল্পনা কমিশন থেকে জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, আসছে বছর থেকে কোনো মন্ত্রণালয়ে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, তার ৩০ শতাংশ অর্থ পিপিপির আওতায় প্রকল্পে খরচ করতে হবে। এ ছাড়া আসছে অর্থবছর ৩৫৫টি প্রকল্প শেষ করার জন্য নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। বাকি ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার। পদ্মা সেতুসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আসছে বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে, যা এডিপির ২৬ শতাংশ বা প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা।