সন্ত্রাস মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ জাপান-বাংলাদেশ

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৫-৩০ ১০:৩৫:৪৪


সন্ত্রাস মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন জাপান-বাংলাদেশ ।

গতকাল বুধবার টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এ কথা বলা হয়।

আলোচনা শেষে বুধবার বিকেলে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘দুই নেতা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।’

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাপান বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একটি কৌশলগত পর্যায় নিয়ে যেতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেয়ার জন্য শিনজো অ্যাবের প্রতি আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশে একটি দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট খোলারও প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে ইতিবাচক জবাব দিয়ে শিনজো অ্যাবে বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় মেয়াদে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা ২০২০-২১ সালে যে মুজিববর্ষ উদযাপিত হতে যাচ্ছে তাতে যোগদানের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। শিনজো অ্যাবে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, তিনি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের লেখক মো. নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ’ জাপান একে অপরের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আড়াই বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি করায় শিনজো আবেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টিও উঠে আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মানবিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের বিষয়ে টেকসই ও দ্রুত সমাধানের উপায় খোঁজার বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি জাপান অনুভব করতে পারছে। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার মতো সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মনে করে জাপান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি ও প্রধানমন্ত্রী আবে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’

 

সানবিডি / এমএফইউ