জনশুমারি ও গৃহগণনা কর্মসূচি ব্যয় ১২২৫ কোটি টাকা কমালো বিবিএস

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৮-০২ ১২:০১:২১


জনশুমারি ও গৃহগণনার কর্মসূচির প্রস্তাবিত ব্যয় এক হাজার ২২৫ কোটি টাকা কমিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ২০২১ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার জন্য প্রথমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বেশ কিছু খাতের অযৌক্তিক ব্যয় কমানোর কারণে এ প্রকল্পের ব্যয় এখন কমে হয়েছে দুই হাজার ২৭৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

আগের প্রস্তাব নিয়ে কমিশনের জোর আপত্তিতে সম্প্রতি পুনর্গঠিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠিয়েছে বিবিএস। এতে শুমারি ব্যয়ের নতুন প্রাক্কলন দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রস্তাবিত ব্যয়ের ওপর আবার যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে তারা বলছেন, ব্যয় আরও কমতেও পারে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০১১ সালের পর ২০২১ সালে আবার জনশুমারি ও গৃহগণনা করা হবে। ২০১১ সালের শুমারিতে ২৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বিবিএস শুরুতে প্রায় ১৫ গুণ বেশি প্রস্তাব দেয়। পরে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে যথাযথ মূল্য নির্ধারণে যৌক্তিকীকরণ কমিটি গঠন করে পরিকল্পনা কমিশন। কমিটির পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে বিবিএস ডিপিপি পুনর্গঠন করেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, পুনর্গঠিত ডিপিপিতে বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণের জন্য ভেন্যু খরচ, মাল্টিমিডিয়া ভাড়া, যানবাহন ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাড়া বাবদ ৫৬ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রস্তাব করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবে ব্যয় কমিয়ে ১৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন ব্যয় ৭৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ কোটি টাকা করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে অর্ধেকের বেশি কমেছে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয়। প্রথমে এ খাতে ৪২ কোটি ধরা হয়েছিল, যা এখন ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ম্যাপিং খাতে ব্যয় ৫৮ কোটি থেকে কমে ৪১ কোটি টাকা হয়েছে। ট্যালেক্স, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেট খাতে আগে প্রায় ১৫ কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব ছিল, যা এখন কমে ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর বাইরে আলাদাভাবে টেলিফোন বাবদ ব্যয় আট কোটি টাকার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, আপ্যায়ন খরচ, যানবাহনের জ্বালানি খরচ, যানবাহন ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কামানো হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে গণনা কাজের ব্যয় একই রাখা হয়েছে। এ খাতে এক হাজার ১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বেশ কিছু অযৌক্তি ব্যয় বিবিএস কমিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ব্যয় যৌক্তিকীকরণ কমিটি এ বিষয়ে আবারও নতুন করে কাজ শুরু করবে।

পুনর্গঠিত ডিপিপিতে সেমিনার খাতে প্রায় তিন কোটি টাকা, কুরিয়ার খাতে এক কোটি টাকা, চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ প্রায় দুই কোটি টাকা, কর্মচারীদের বাইরে শুধু শ্রমিকের এক কোটি ২০ লাখ টাকা, বিনোদন খরচ ১৩৪ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ১৮৮ কোটি টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ৩২২ কোটি টাকা, কম্পিউটার খাতে তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা, পরামর্শক খাতে প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

সারাদেশে তথ্য সংগ্রহে এবার ৬০০ মোটরসাইকেল, ৫০টি স্কুটি, ১২টি জিপ এবং চারটি মাইক্রোবাস কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, গণনাকারীদের মোটরসাইকেল দেওয়া হবে কি-না সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।