লুই কানের নকশায় কোনো কবরের চিহ্ন ছিল না

প্রকাশ: ২০১৫-১১-১৭ ১৩:০৪:০০ আপডেট: ২০১৫-১১-১৭ ১৩:০৪:০০

Mosharrofগৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, লুই আই কানের প্রণীত নকশায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে কোনো কবরের চিহ্ন ছিল না। কোথাও কবরস্থান দেখানো হয়নি। আমাদের উদ্দেশ্য কারও কবর সরানো নয়, লুই আই কানের অমর এ স্থাপত্য শিল্পকে রক্ষা করা। লুই আই কানের মূল নকশায় ফিরে যাওয়া। আর যারা এ নকশার পরিবর্তন করে কবরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। সোমবার জাতীয় সংসদে ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

 মোশাররফ হোসেন বলেন, লুই আই কান বিশ্ববিখ্যাত একজন স্থপতি। তার মূল নকশা রক্ষায় আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নকশাবহির্ভূত স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারের আমলে লুই আই কানের নকশা পরিবর্তন হয়েছে। সংসদ ভবন চত্বরে কবর দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করেছি। তাই আমি মারা গেলে যদি কেউ বলে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মাঝখানে আমাকে কবর দেয়া হোক, এটা কী সম্ভব? কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি মারা গেলে যদি সংসদ ভবনের বিশাল সবুজ চত্বরে কবর দেয়ার দাবি ওঠে, সেই অনুমতি কেউ কি দেবে?

শিরীন আখতারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারি নির্দেশনায় বিভিন্ন সময়ে সংসদ ভবন চত্বরে কবর গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় লুই আই কান প্রণীত সব নকশা পেনসিলভিনিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচারাল আর্কাইভ থেকে সংগ্রহের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মূল নকশা আনা হলে নকশা অনুযায়ী সংসদ ভবনসহ এ এলাকার সব স্থাপনার সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং সমন্বয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 তিনি বলেন, মূল নকশা হাতে পেলেই সংসদ ভবনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারব। এছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সংসদ সচিবালয়, দক্ষিণ প্লাজা সবই লুই আই কানের নকশার মধ্যে রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে নকশা আনার পরই মূল নকশায় আমরা ফিরে যাব। মূল নকশাকে আমাদের টিকিয়ে রাখতেই হবে। বিভিন্ন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয়ভাবে কয়েকজনকে কবর দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খান।

এছাড়াও শেরেবাংলা নগরে লুই কানের নকশাবহির্ভূত আরও সাতটি স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি), সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরের চারদিকে থাকা চারটি প্রবেশপথের শুরু বা শেষ প্রান্তে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সম্মেলন কেন্দ্র, মসজিদসহ চারটি স্থাপনা।

 নতুন ড্যাপ প্রণয়ন হচ্ছে : ভবনের উচ্চতাকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা মহানগরীর জন্য আরেকটি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এটি ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে। আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়নমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর ইমারতের উচ্চতা নির্ধারণে ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ এ বর্ণিত ফ্লোর এরিয়া রেসিও এবং সিভিল এভিয়েশনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে অঞ্চলভিত্তিক হাইট জোন নির্ধারণে রাজউক ইতিমধ্যে বুয়েটের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক সমীক্ষা শেষ করেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর জন্য পরবর্তী ড্যাপ (২০১৬-২০৩৫) প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। যার একটি উল্লেখযোগ্য কমপোনেন্ট হচ্ছে হাইট জোনিং। এই ড্যাপের সুপারিশ অনুযায়ী রাজউক ভবিষ্যতে বিধিমালা সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেবে এবং যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ নেবে।