রাজধানীতে ৬০ হাজারের কমে মিলছেনা কোরবানির পশু
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৮-০৮ ১৪:৩৭:২৬
রাজধানীর সব হাটে আকার অনুযায়ী গরুর দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে বলছেন ক্রেতারা। যেকারণে বেশ চলছে দর-কষাকষি। গরু দেখাদেখি হচ্ছে কিন্তু সেভাবে বেচাকেনা শুরু হয়নি। একইসঙ্গে ঢাকার হাটগুলোতে ৬০ হাজার টাকার কমে গরু মিলছে না বলেও জানাচ্ছেন ক্রেতারা। পবিত্র কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঢাকার একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীসহ অস্থায়ী হাটগুলোতে আসছে কোরবানির পশু।
বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতারা ক্রেতারা সময় নিচ্জেচন। তারা গরু দেখছেন। দর-দাম করছেন।
আর ক্রেতারা বলছেন, যাচাই-বাছাই করে আজ বা কাল পশু কিনবো।এবার গরুর দাম গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
গরুর দাম নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ- গরুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে। হাটে সর্বনিম্ন ৮০ কেজি মাংস হবে এমন গরুর দামও ৬০ হাজার টাকা হাঁকা হচ্ছে।আবার বিক্রেতারা বলছে, ক্রেতারা গরু দেখছেন আর দরাদরি করছেন।ঐ রকম ভাবে এখনো বিক্রি শুরু হয় নি।হাটগুলোতে চলছে ব্যাপারী ও ক্রেতার মধ্যে মধুর ‘দোষারোপ’।
ব্যাপারীদের দাবি, গো-খাদ্যের দাম বেশি। ফলে গরুর দামও বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি ভুসি ৩৭ টাকা। গমের আটার কেজি ২৫ টাকা।
বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) গাবতলী,শনির আখরা, কচুক্ষেত বাজার (রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট ও শাপলা চত্বর), মোহাম্মদপুর বসিলা ও আফতাবনগর হাট ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
ফরিদপুরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, কৃষি কাজের পাশাপাশি গরুও পালন করি। তিনটি ছোট মাঝারি দেশি গরু শনির আখরা হাটে তুলেছেন। শুধু তিনিেই নয়, একই এলাকার আরও ৮ জন মিলে এক ট্রাক দেশি গরু এ হাটে তুলেছেন বাড়তি দামের আশায়। তিনটি গরুর মধ্যে ছোটটির ওজন ৮০ কেজি আর বড় গরুর ১৬০ কেজি। ৮০ কেজি মাংস পাওয়া যাবে গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ হাজার। অন্যদিকে, ১৬০ কেজি মাংস পাওয়া যাবে গরুটির দাম এক লাখ ৩০ হাজার।
নিজের গরুর দাম প্রসঙ্গে কৃষক সান বিডিকে বলেন, দাম চাচ্ছি ৭৫ হাজার, ৬০ হাজার হলে বিক্রি করবো। ক্রেতা আসছে। দামে হচ্ছে না। আশা রাখছি শুক্রবার হাট জমবে। এখন দেখার মানুষ বেশি। দাম যা চাই, তার অর্ধেক বলছেন ক্রেতারা।
কোরবানির পশু সাধারণত ঈদের দুই দিন আগ থেকে বেচাকেনা হয় রাজধানীতে। ঢাকা শহরে অধিকাংশ মানুষই ভাড়া ও ফ্ল্যাট বাসায় বসবাস করেন। কোরবানির গরু রাখার স্থানের বড় সংকট।
এছাড়া আফতাবনগর হাটেও দেশি গরুর দাম চড়া। দেড় থেকে দুই মণ মাংস পাওয়া যাবে এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। হাটে ৮০ থেকে এক লাখ টাকার গরুর চাহিদা বেশি। এই হাটে অধিকাংশ কোরবানির পশু কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছে। এ হাটেও জমে উঠেছে দর-কষাকষি। তবে সব হাটের মতো এখানেও প্রায় ৬০ হাজারের নিচে কোনো গরু নেই।
মগবাজার মধুবাগ থেকে আফতাবনগর হাটে এসেছেন শফিকুল ইসলাম। কোরবানির পশুর দাম প্রসঙ্গে তিনি সানবিডিকে বলেন, আমার বাজেট ৮০ হাজার টাকা। এই দামে পছন্দের গরু মিলছে না। গরুর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা পাবনার এক ব্যাপারীর পাল্টা যুক্তি, গরু কেনাই বেশি; ৬০০ টাকা কেজি। আমরা কীভাবে দেবো। গরু পালতে গিয়ে আমরা পাগল হয়ে যাচ্ছি। বৃষ্টির দিনে গরু পালা যে সমস্যা। এখন কীভাবে দেবো। গরুর তুলনায় কম দাম বললে আমরা কী করে দেবো। এরপর আবার গরু প্রতি ট্রাক ভাড়া আছে দুই হাজার টাকা।
গরুর দাম নিয়ে তিনি বলেন, গরুর খাবারের যে দাম ৬০ হাজারের বেশিই প্রায় সব গরু। ৬০ এর কমে গরু নেই।
এদিকে, হাটের পরিবেশ দেখে খুশি ক্রেতা-বিক্রেতারা। গরুর জন্য খাবার পানি এমনকি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া হাটে ২৪ ঘণ্টাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














