২১ আগস্ট আজ

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২১ ১১:০৫:৫৯


দিনটি ছিল শনিবার। সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ছিল নিরুত্তাপ। বিকাল ৩টায় সন্ত্রাস ও বোমাহামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশ।

সেই সমাবেশে যোগ দেবেন ওই সময়ের বিরোধী দলের নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দুপুর থেকেই নেতাকর্মীদের সমাগম বাড়তে থাকে সমাবেশস্থলে। সমাবেশের মঞ্চ হিসেবে প্রস্তুত ছিল একটি ট্রাক। সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে ট্রাকের ওই মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা।

ঠিক ৫টা ২২ মিনিটে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে বক্তব্য শেষ করে মোড় নিতেই শুরু হয় গ্রেনেডহামলা। ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় রক্ত আর লাশের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে আহত-নিহতদের দেহ। ঘটনার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ২১ আগস্টের ভয়াল স্মৃতি আর গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

গোটা গুলিস্তান রক্তাক্ত হলেও সরকার নীরব-এসএম কামাল

২১ আগস্টের দিন ছিল সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি র্যালি। এজন্য একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো। মঞ্চের পাশেই আমরা সবাই দাঁড়ানো ছিলাম। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হলো।

তারপর দেখি আমার সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে গেছে। তখন আমাকে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ড্রাইভার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু কোনো ডাক্তার সেদিন এগিয়ে আসেনি। এরপর আমার কোনো সেন্স ছিলো না।

এরপর আমাকে অপারেশন করা হয়েছিলো। কিন্তু আমার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তখন নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। দেশ এবং দেশের বাইরে আমাকে যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে তার সম্পূর্ণ খরচ তিনি বহন করেছেন।

গত সোমবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২১ আগস্টের স্মৃতিচারণকালে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, তৎকালীন ঢাকা মেডিকেলে কোনো চিকিৎসাব্যবস্থা ছিলো না, যা ছিল তা নিয়ে এগিয়ে আসেনি কেউ। সরকারের ভয়ে কোনো চিকিৎসক ইচ্ছা থাকলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেননি।

এসএম কামাল বলেন, যে শক্তি ৭৫-র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিলো। সেই একই শক্তি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেডহামলা করেছিলো। ওই অপশক্তির মূল লক্ষ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুকন্যা (তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।

১৫ আগস্ট জিয়া এবং ২১ আগস্ট তারেক জিয়া মূল পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলো। যে দেশি-বিদেশি শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো সেই দেশি-বিদেশি শক্তিই ২১ আগস্ট হামলা করেছিলো।

তাদের লক্ষ্য ছিলো, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা এবং পুরো বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করা। তারা ভেবেই নিয়েছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যা করলে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে একটি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু সেই স্থান থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে বের করে নিয়ে এসেছে।

কামাল হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারের সব অপকর্ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই কারণেই সেদিন ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চাওয়া হয়েছিলো।

কিন্তু তারা সেই পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণের আশা পূরণ হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দ্বারপ্রান্তে।

আক্ষেপ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী একটি স্থানে বক্তব্য দেবে অথচ সেখানে আইনশৃঙ্খলার লোক নেই। এ অবস্থায় যখন হামলা হলো, মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হলো।

গোটা গুলিস্তান এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থা তৈরি হলো। পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। অথচ সরকার ও তার বাহিনীরা নীরব ছিলো। উল্টো হামলার পর আলামত নষ্ট করতে পানি দিয়ে সব রক্ত ধুয়ে ফেলা হয়েছিল।

পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দলের প্রধানসহ হত্যা করার নজির বিরল। ওই ঘটনা সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করে। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর জানা ছিল না।

জানলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতো না। দীর্ঘদিন পর হলেও এই হত্যাকাণ্ডের যে বিচার করেছে, সেই বিচারকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। এই আমাদের শেষ চাওয়া।

জ্ঞান ফিরলে দেখি লাশ আর রক্ত : নাসিমা ফেরদৌস

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দিচ্ছেন। আমি আর আইভি আপা একসাথে মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ একটি বিকট আওয়াজ। এরপর দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় আমার পাশেই পড়ে আছেন আইভি আপা।

আইভি আপার একটা কিছু হইছে এটা বুঝতে পারছি। কিন্তু এটা বুঝতে পারিনি আমার কিছু হয়েছে। আমি আইভি আপাকে রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাকে উদ্ধার করার জন্য উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু উঠে দাঁড়াতে পারি না।

তখন আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি পা দিয়ে শুধু রক্ত বের হচ্ছে। নিজের শরীর রক্তাক্ত ও ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় দেখে আমার আর হুঁশ ছিলো না। এরপর যখন জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি একটি ট্রাকের মধ্যে আছি।

আমার চারপাশে শুধু লাশ আর রক্ত। এমন অবস্থায় আমার চিৎকার শুনে সবাই বুঝতে পারে আমি বেঁচে আছি। উত্তরার নিজ বাসায় আমার সংবাদকে এভাবেই ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলার বিবরণ দিচ্ছিলেন সাবেক মহিলা সাংসদ নাসিমা ফেরদৌস।

নাসিমা ফেরদৌস বলেন, সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি, মরে গেছি ভেবে লাশের ট্রাকে তুলেছিল, ঢাকা মেডিকেলের করিডরেও রেখেছিল, কিন্তু জ্ঞান ফিরে আসায় চিৎকার করে উঠি, তারপর সবাই বোঝে আমি মরিনি, তখনও বেঁচে আছি। এখনো ভাবি, আর কিছুক্ষণ পর যদি জ্ঞান ফিরতো তাহলে হয়তো মর্গেই চলে যেতাম।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা এই নারীনেত্রী এখনো বয়ে চলেছেন শরীরের ভেতরে অসহ্য যন্ত্রণা। শরীরের ভেতরেই দুঃসহ যন্ত্রণা তাকে প্রতিদিনই মনে করিয়ে দেয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সেই ভয়াবহ হামলার কথা। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এমন অবস্থায় আমাকে হাসপাতালে নেয়া হলো। কিন্তু হাসপাতালে আমার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না।

এদিকে শরীর দিয়ে রক্ত ঝড়েই যাচ্ছে। এমন যন্ত্রণা হচ্ছে যে, আমি আর সহ্য করতে পারছি না। এমন অবস্থায়ও কর্তৃপক্ষ সারা রাত কোনো ট্রিটমেন্ট করেনি। এরপর সাংবাদিক ভাইরা আমার পরিবারের কাছে খবর পৌঁছান।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রতি নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেনেডহামলা হলো, মুহূর্তের মধ্যে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মীর রক্তে লাল হয়ে গেলো পুরো গুলিস্তান এলাকা।

আইভি রহমানসহ অনেকেই মারা গেলো, আমরা শত শত নেতাকর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দোষারোপ করলো।

জজ মিয়া নামে নতুন নাটক তৈরি করলো। তিনি বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পুরো পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে ঠিক একই কায়দায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেডহামলা করা হয়েছিলো।

৭৫-এর ১৫ আগস্ট আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট একই সুতায় গাঁথা। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো ২১ আগস্ট। এরপরও শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা শেষ হয়নি।

তিনি বলেন, আমার শরীরে দেড় হাজারের মতো স্প্লিন্টার প্রবেশ করেছিলো। পা দুটো ক্ষতবিক্ষত। শরীরের ক্ষতবিক্ষত অংশগুলো জোড়াতালিয়ে দিয়ে হুইল চেয়ারে জীবন যাপন করছি।

সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার পাশে না থাকলে হয়তো আর কোনো দিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতাম না। তিনি বলেন, এখনো আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে যন্ত্রণা করে। এখনো মাঝে মাঝে রাতে ঘুমাতে পারি না। হাত-পাগুলো অবশ হয়ে আসে।

ফুসফুস, কোমর, পিঠ, মাথা, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এখনো স্প্লিন্টার ঢুকে আছে। এমন কোনো স্থান নেই যে স্প্লিন্টার নেই। নিজের শরীরের ক্ষতগুলো নিজেই দেখলে ঠিক থাকতে পারি না। আগস্ট মাস এলেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাই। দু-চোখে শুধু বারবার লাশ আর রক্তের চিহ্ন ভেসে ওঠে। হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন খালেদা ও তারেক রহমান।

এ মামলায় এই দুজনের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিলো। শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচে না থাকলে আজকে আমি দুপায়ে ভর করে দাঁড়াতে পারতাম না। আজ কথা বলতে পারতাম না। শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচে গিয়েছিলো বলেই আজ আমরা সুষ্ঠুভাবে বেঁচে আছি।

সেদিন আমরা যারা আহত হয়েছিলাম নেত্রী আহতদের খুঁজে বের করেছেন। চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর অনেক ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেত্রীকে সাংসদ করেছেন। তিনি সবাইকে ভালোবাসেন। তাই যতদিন বেঁচে থাকবো নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাবো। এটাই আমার শেষ ইচ্ছে।

চারদিকে শুধু বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার-উম্মে রাজিয়া কাজল

২১ আগস্ট। আমার জীবনে দেখা ভয়াল ঘটনা। আমি কখনো ভাবতে পারিনি এই দেশে এ রকম একটা সন্ত্রসী ঘটনা ঘটবে। ওইদিনের সমাবেশে হামলার সময় আমি আইভি আপার পেছনে অবস্থান করছিলাম। হামলা শুরু হওয়ার পর একটি বিকট আওয়াজ হলো। এরপর কী যেন একটা আমার পায়ে এসে আঘাত করলো। আমি আমার পা ঠিক করার চেষ্টা করলাম। শুরু হলো করুণ অবস্থা।

শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত। আরেকদিকে প্রচণ্ড ধোঁয়া। সবাই শুধু বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছে। তখন অন্য সবার মতোই আমিও দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমি আমার পা দুটো ওঠাতে পারলাম না। বাটা শোরুমের সামনে পড়ে রইলাম। তখন ভাবছিলাম এটাই হয়তো আমার শেষদিন। তখনো গুলির শব্দ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাকে তুলে আনল।

তখনো আমি বারবার আপার কথা জিজ্ঞাসা করলাম। আপা কেমন আছে। আমি একটু আপাকে দেখবো। আপার সাথে আমাকে দেখা করিয়ে দেন। এরপর দূর থেকে আপাকে এক নজর দেখলাম। সেদিন আমার একমাত্র মেয়ে আর ছোটবোনের কথা খুব মনে পড়ছিল। মনে হয়েছিল, ওদের বুঝি আর দেখতে পাবো না। এরপর নেতাকর্মীরা আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।

সেখানে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনো আমার শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সেদিনের ভয়াল দৃশ্য ভুলতে পারব না।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এ সাংসদ বলেন, সেদিন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলোর মূল টার্গেট ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭৫-র ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্ট একই সুতায় গাঁথা। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

গোপালগঞ্জের এ নারী নেত্রী বলেন, সেদিন আমি দেখেছিলাম চক্রান্তকারীরা কীভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করার জন্য আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছিলো।

কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানব ঢাল তৈরি করে নেত্রীকে বাঁচিয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যে আজো শ্রদ্ধেয় হানিফ ভাই, জলিল ভাইসহ সবার মুখগুলো ভেসে বেড়ায়।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা সম্পাদিকা উম্মে রাজিয়া কাজল বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সারা দেশে যেভাবে খুন-ধর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিলো সেসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদেই সেদিন সভানেত্রীসহ আমরা আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম।

কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশেই কিন্তু তারা গ্রেনেডহামলা করেছিলেন। কিন্তু এর বিচার সেই সরকারের অধীনে হয়নি। শুধু বিচার নয়, বরং তারা এই ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের নাটক তৈরি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দোষারোপ করেছিলেন।

তিনি বলেন, গ্রেনেডহামলা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই গ্রেনেডহামলায় আমরা যারা আহত হয়েছিলাম তাদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

এরপর ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের সবাইকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছেন। আমাদের সংসদ সদস্য করেছিলেন। এর থেকে আর বড় মূল্যায়ন হয় না। জাতির পিতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে।

আজ আর বাংলাদেশের কোনো মানুষ না খেয়ে থাকে না। তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনতার পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো যেভাবে দেশের মানুষকে হত্যা ও গুম করেছে। তার বিচার আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। আমরা আশাবাদী গ্রেনেডহামলাকারীদের বিচার হবে।

যেসব তরুণ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হচ্ছে সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে রাজনীতি করতে হবে। ২১ আগস্টের ঘটনা আর যেন বাংলার বুকে না ঘটে, সে জন্য জঙ্গিবাদ এবং তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। তাহলেই ২১ আগস্টের নিহত ও আহতরা শান্তি পাবে।