স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৮ ১৮:২৭:০৪
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা মিলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে। আর বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো পুনর্বাসন করেছে।
জিয়াউর রহমান নিজে বঙ্গবন্ধু হত্যার উপকারভোগী এবং মদদ দাতা।তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে দেশের বাইরে পুনর্বাসন করেছেন। আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচার না করে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইনডেমনিটি অডিন্যান্সকে সংবিধানের অংশে পরিণত করেছেন।
এরপর এরশাদ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সরাসরি রাজনীতিতে পুনর্বাসন ও প্রটেকশন দিয়েছেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদেরকে বিভিন্ন মিশনে চাকরী ও পদোন্নতি দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া একইরূপে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদেরকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদেরকে ধ্বংস করতে সহায়তা করেছেন”।
২৭ আগষ্ট (বুধবার) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত জাতির পিতার জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
। মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ না করলেও যে দলই করুন না কেনো মনে রাখবেন, আমাদের অস্তিত্বের উৎস মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। যেখানে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, যেখানে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা পৌঁছেছি। এটাকে ধরে রাখতে সততার সাথে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং খুনী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে”।
মন্ত্রী অরো বলেন, “৭৫ এর খুনীদের নতুন প্রজন্ম যেনো আবার জন্ম নিতে না পারে। এই খুনীরা একেক সময় একেক নামে আবির্ভূত হলেও তাদের লক্ষ্য একই। বারবার শেখ হাসিনা খুনীদের লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছেন। কারন তাঁর ভেতরে আছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্পিরিট। তাঁর কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ। তাঁর কাছেই হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-মুসলমানের সম্প্রীতির বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায়। তার কাছেই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্টিয়ারিং দেখা যায়”।
রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে কখনো বিচ্যুত হবেন না। আমি চাই আরো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি আরো দায়িত্বশীলতার সাথে আপনারা কাজ করবেন। মনে রাখবেন সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন দেয়া হয়। একজন মানুষও যেনো সেবা নিতে এসে রাজউক থেকে কষ্ট নিয়ে বেরিয়ে না যায়। সেই কষ্ট ৩০ লক্ষ শহিদের চেতনার পরিপন্থী, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পরিপন্থী, অবিরাম পরিশ্রম করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিশ্রম পরিপন্থী। আসুন রাজউক পরিবারকে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী, জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করি। রাজউকের গৌরবকে সকলে মিলে পুনরুদ্ধার করি”।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) সাঈদ নূর আলম, মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার এবং অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ও রাজউক কর্মচারী শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্য আলোচক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মত্যাগকে আমরা শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবো। একটি রাষ্ট্রের মালিকানা আমরা পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। সেটি হারিয়ে যায় ৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আমাদের জন্য এখন গৌরবের। তার নেতৃত্বে আমরা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, উন্নত বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অবদান ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে আনা গণতন্ত্র। অপশক্তির ব্যাপারে আমাদের সাবধান থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। এটা হোক জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার। কারণ অপশক্তি আবার আঘাত হানতে পারে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, “বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই। একটি স্বাধীন প্রগতিশীল রাষ্ট্রকে হত্যা করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে সেদিন হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই তাঁর আদর্শে অবিচল। বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন”। সভাপতির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, “বঙ্গবন্ধুই একমাত্র কিংবদন্তী, যিনি আপোষহীনভাবে কর্মের মধ্য দিয়ে সকলের আস্থা তৈরী করতে পেরেছিলেন”।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














