জিডিপি বাড়লেও রাজস্ব আয়েের হার বাড়েনি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৩ ১২:২৫:১৬


গত তিন বছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সরকারের চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বেসরকারি বিনিয়োগে খরা কাটছে না। তলানিতেই রয়ে গেছে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আয়ের হার। এছাড়া রয়েছে দক্ষ জনশক্তির অভাব।

প্রক্রিয়াধীন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে জিডিপির ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে এসব বাধাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

এক বৈঠকে সোমবার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসবে, সেসব বিষয়ও উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে জানানো হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার একটি ধারণাপত্র তৈরি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন ও ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

ড. শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু চ্যালেঞ্জ থাকবেই। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- দেশজ সম্পদের বৃদ্ধি ঘটানো। দেখা যায়, দেশ উন্নত হচ্ছে, মানুষের আয় বাড়ছে।

কিন্তু সেই তুলনায় রাজস্ব বাড়ছে না। নিয়ম হচ্ছে- আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বেশি কর দেবে। সেটি তো হচ্ছে না। তাছাড়া দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কেননা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে কাজে লাগাতে হলে জনবগণকে দক্ষ করে গড়ে তুলতেই হবে। এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর আহরণ ও বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি ছাড়াও ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্য, দক্ষ জনশক্তির অভাব ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক চাপকেও বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ধারণাপত্রে। জিইডির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারের চলমান পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গত অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে তা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছে।

তবে এ সময়ে বিনিয়োগের হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকলেও বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দার কারণে তা সাড়ে ৩১ শতাংশেই আটকে আছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে সরকারি খাতে জিডিপির ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ বিনিয়োগ এলেও তা গত অর্থবছর ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ১০ বছরে সরকারের বিনিয়োগ ৩৭ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। অপরদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশে।

এ বিষয়ে জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের দুই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেসরকারি বিনিয়োগকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে তা জিডিপির ২২ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ অবস্থার অবসানে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি একটি কার্যকর ও গতিশীল স্টক মার্কেট ও বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে জিইডি আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশে কর জিডিপির অনুপাত মাত্র ৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা সারা বিশ্বে সর্বনিু। একইভাবে করবহির্ভূত রাজস্বের পরিমাণও মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ পরিমাণ সরকারি সম্পদের অবকাঠামো, কৃষি, পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের জন্য যথেষ্ট নয়। এ পরিমাণ সম্পদ আহরণ করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন প্রায় অসম্ভব হবে।

শ্রমশক্তির দক্ষতার অভাবকে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতিতে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, শ্রমশক্তির ৩২ শতাংশের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। সব মিলে মাধ্যমিকের চেয়ে বেশি শিক্ষা রয়েছে শ্রমশক্তির মাত্র ১৯ শতাংশের।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস