স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাফল্যের শুরু বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে:কৃষি মন্ত্রী।

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৯-০৯ ১৫:২৮:১১


কৃষি মন্ত্রী ড.মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন,বাংলাদেশে স্বাধীনতা-উত্তর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাফল্যের শুরু বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। স্বাস্থ্যকে সংবিধানের মূল অধিকারের তালিকায় সংযোজন, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানদান, গুটিকয় জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল থেকে থানায় থানায় শত শত গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে স্বাস্থ্যকে গুরুত্ববহ করে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রযাত্রা শুরু।

আজ(শনিবার)  ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। চার তলা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিমার্ণ ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যায়ে হয়েছে। এটি দেশের ২য় ১০০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে ‘জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান’ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭৫-৯০ সামরিক শাসন এবং স্বাধীনতা বিরোধী ও গণতন্ত্রহীনতার কারণে দীর্ঘ সময় স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন হয়নি। ১৯৯০-৯৫ এই সময়ে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি লক্ষ্য করা যায়।

ফলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে স্থবিরতা সৃষ্টি হয় ১৯৯৬ সালে বাংলার মানুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অতীতের শাসকদের লুটপাট, দুর্নীতি ও অস্থিতিশীলতা ধারা পরিহার করে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দেশে প্রথম জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কারা হয়েছে। ১২১ মেডিকেল কলেজ,০৪টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করা হয় কিডনি, ৫০০ শয্যার প্লাস্টিক বার্ণ ইউমিট, ক্যান্সার, নিউরোলজিসহ বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। এ ছাড়া চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯-এ গণমুখী স্বাস্থ্যনীতির ধারায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একবিংশ শতাব্দীর ঊষালগ্নে স্বাস্থ্যকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু, তা গত এক দশকে শত ধারায় বিকশিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়; বিশ্বে তা এক মডেল, অনুশ্রেয় মানদন্ড। ২০০৯ সালে Global Alliance for Vaccine And Immunization (GAVI) Award পায় বাংলাদেশ। আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন করতে হবে।

ডা: মো:শরীফ হোসেন খান,সিভিল সার্জন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল এর জেলা প্রশাসক মো: শহীদুর ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচী, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়, অধ্যাপক ডা. মোঃ আঃ আজিজ, মহা সচিব, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি। অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল হোসেন খান, লাইন ডায়রেক্টর, ঈঠঐঈ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, ডা. মোঃ আমিনুল হাসান, পরিচালক (হাসপাতাল), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আলহাজ¦ মোঃ ছারোয়ার আলম খান (আবু), চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, মধুপুর।

এর আগে মন্ত্রী ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা বাজারে সেড উদ্বোধন করেন। ৪কোটি টাকা ব্যায়ে এই সেড নির্মিত হবে। সেড উদ্বোধন করে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন,আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন,তিনি যেন সুস্থ থাকেন। যত দিন শেখ হাসিনার কাছে থাকবে দেশ উন্নয়ন হতেই থাকবে।