আদালতে সাকা চৌধুরীর যত উক্তি

|| প্রকাশ: ২০১৫-১১-১৯ ১০:২৭:২৭ || আপডেট: ২০১৫-১১-১৯ ১০:২৭:২৭

Saka Chaudhuryমানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এই বিচার নিয়ে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী বারবার কটাক্ষ করেছেন। বিচারের প্রতিটি পর্বে নিজের অতীত ও বর্তমান নিয়ে দম্ভোক্তি করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির প্রতি বিদ্রূপ করেছেন।
সাকা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। বিচার চলাকালীন করা সাকা চৌধুরীর কিছু দম্ভোক্তি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো—
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল ৩ নম্বর অভিযোগ পড়ার সময় সাকা চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধে ৩০ লাখ লোক মারা গেছে তো? লেইখা দিলেই হয়, তার মধ্যে ২০ লাখ আমি মারছি…।’ তিনি বলেন, ‘রায় তো গতকালই ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে। এই রায় এখান থেকে হয়নি। এই রায় বেলজিয়াম থেকে এসেছে।’ রায় ঘোষণার শুরুতে সাকা চৌধুরীকে পাঁচবার নির্বাচিত সাংসদ বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এ সময় সাকা চৌধুরী বলেন, ‘কয়বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি তাও বলতে পারে না।…এত মিথ্যা কথা বলছে, ওটা লিখতে ভুলে গেছে।’
রায়ের প্রথম অংশ পড়ার একপর্যায়ে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ রায় দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আর আমি এই তিনজনের রায় শুনতে এসেছি…।’
নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যার অভিযোগের বর্ণনার সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি একজন জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সাকা চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘সে মদ বেচত।’
সাজা ঘোষণা শুরু হলে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘তাড়াতাড়ি ফাঁসি দিয়ে দাও। সাঈদীর মতো লোকরে ফাঁসি দিছে, আমি তো মস্ত বড় গোনাগার।’ রায় পড়া শেষে তিনি উচ্চ স্বরে বলতে থাকেন, ‘এ রায় তো আগেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়েছে। এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ।…রায় এসেছে বেলজিয়াম থেকে। এরা শুধু মুখ নাড়ছে।’ রায় পড়ার সময় বিচারকদের কটাক্ষ করে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘কী ইংরেজি লিখছে? নিজেরাই পড়তে পারছে না।’ রায়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্রের প্রসঙ্গ এলে টিপ্পনী কাটেন, ‘সহি হাদিস’।
২০১২ সালের ১৪ মে আদালতকক্ষের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং চিৎকার করে কথা বলার জন্য সাকা চৌধুরীকে সতর্ক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এতে সাকা চৌধুরী উচ্চ স্বরে বলেছিলেন, ‘মিস্টার নিজামুল হক (ট্রাইব্যুনাল-১-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক), ডোন্ট শো ইউর রেড আইজ, আই রিকোয়েস্ট ইউ উইথ ডিউ রেসপেক্ট অ্যান্ড হিউমিলিটি।’ (জনাব নিজামুল হক, চোখ রাঙাবেন না, যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সঙ্গে বলছি।)
২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে প্রথম হাজিরার দিন সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমি সিটিং মেম্বার অব পার্লামেন্ট। আমাকে কথা বলতে দিতে হবে। বর্তমান সরকার কারজাই সরকার। এই কারজাই সরকারকে মানি না।’ ট্রাইব্যুনালে বিএনপির সমর্থক ও আইনজীবীদের ঢোকা নিয়ে হইচই হলে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে ৫০০ কেন, ৫০০০ আইনজীবী আসবে। প্রয়োজনে কারওয়ান বাজার, পল্টন ময়দানে বিচার হবে।’
২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি শুনানির দ্বিতীয় দিনে এজলাসে ঢুকেই সাকা চৌধুরী বলেন, ‘এটা কি ক্যামেরা ট্রায়াল? পাবলিক ট্রায়াল হতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের যদি পাবলিক ট্রায়াল হয়, আমারটা কেন পাবলিক ট্রায়াল হবে না?’
রাষ্ট্রপক্ষ ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইলে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘গণ-আদালতে একবার এ অপরাধে বিচার হয়েছে। এক খাসি কতবার কোরবানি দেবেন?’ ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে কোনো অভিযোগ ছাড়া গ্রেপ্তার করে তারপর তদন্ত করা হলো। ব্যাপারটা এমন—বাপের পরিচয় ছাড়া ছেলের শাদি হয়ে গেছে। এখন বাপের পরিচয় হালাল করতে বাপের বিয়ে করাচ্ছে।’