চামড়া: বিপাকে সংগ্রহকারীরা, বিটিএ সভাপতির পরামর্শ

|| প্রকাশ: ২০১৫-০৯-২৬ ২১:২৬:৫৫ || আপডেট: ২০১৫-০৯-২৭ ১৯:১৭:১২

chamra-400x262_84801কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংগ্রহকারীরা। অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্র মৌসুমী ব্যবসায়ীদের বিপাকে ফেলে ঘোষিত দামে চামড়া কিনতে চাইছে না। এতে কম দামে সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে চামড়া ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এমনকি ঘোষিত দরের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশিতে চামড়া কেনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ।

তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে চামড়া সংগ্রহকারীরা যেন সরাসরি ট্যানারিতে যোগাযোগ করে। প্রয়োজনে চামড়া বিক্রি না করে সংগ্রহকারীদের লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দেশে সারা বছরে মোট জবাইকৃত পশুর অর্ধেকের বেশি জবাই হয় ঈদুল আজহায়। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এ সংখ্যা ৩০ লাখের কম নয়। তাই সময়টাকে পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মৌসুমে অনেকেই নিজ নিজ পেশা ছেড়ে চামড়া সংগ্রহকারী বনে যান। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ঠকিয়ে আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনে নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

আড়তদারদের এবারের অজুহাত হলো-চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপাদান লবণের অভাব। রাজধানীর হাজারীবাগ ও পোস্তা ঘুরে একাধিক চামড়া সংগ্রহকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আড়তদারেরা ঘোষিত দামে চামড়া কিনছেন না।

সংগ্রহকারীরা জানান, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ), বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) ঘোষিত দর অনুযায়ি গরুর চামড়া ১৫০০ টাকা হলেও তার জন্য ১১০০ টাকার বেশি দিতে চাইছেন না আড়তদারেরা।

অন্যদিকে আড়তদাররা বলছেন, লবণের অভাবে চামড়া কেনা বন্ধ আছে। কম দামে কেনা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বিটিএ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে সংগঠনটির সভাপতি শাহীন আহমেদ দাবি করেন, কম দামে চামড়া কেনার খবর সত্য নয়।

তিনি বলেন, আমরা যতদূর জানি চামড়া ঘোষিত দরের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশিতে কেনা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তথ্য রয়েছে বলে জানানো হলে তিনি বলেন, কোনো অসাধু চক্র এমনটি করে থাকতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে চামড়া সংগ্রহকারীরা যেন সরাসরি ট্যানারিতে যোগাযোগ করে।

শাহীন আহমেদ আরও বলেন, যদি কেউ নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে না পারেন, তবে তারা সহজেই নিজেরা লবণ দিয়ে তা সংগ্রহ করতে পারেন। এ চামড়া পরবর্তীতে যে কোন ট্যানারিতে বিক্রি করা যাবে। ঢাকাটাইমস