ডিএনসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০: আধুনিক ওয়ার্ডের প্রতিশ্রুতি

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৪ ১৫:১১:৫৯


ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৭নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এজন্য তারা আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, পার্ক, গণপাঠাগার, ব্যায়ামাগার, পাবলিক টয়লেট, ছাদবাগান, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে চান।

ডিএনসিসির ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী, রূপনগর থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তফাজ্জল হোসেন টেনু, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. এজাজ আহমেদ স্বপন, রূপনগর থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মিরপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন দুলু, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইয়াসিন ভাণ্ডারী ময়না।

বর্তমান কাউন্সিলর মোবাশ্বের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন নির্মাণ কাজ তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এসব বিষয়ে জানার জন্য তার মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মিরপুর ২ ও ৬ নম্বর এ ও বি ব্লক, রূপনগর ১-৩৯নং সড়ক, শিয়ালবাড়ী, হাজী রোড, রাইনখোলা, প্রশিকা ও চেতনার মোড় নিয়ে ডিএনসিসির ৭নং ওয়ার্ড গঠিত। ঢাকা-১৪ আসনের অধিভুক্ত এ ওয়ার্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ও ভোটার সংখ্যা ৮৬ হাজার।

ওয়ার্ডের রূপনগর আবাসিক এলাকা থেকে প্রশিকার মোড়, হাজী রোড, কমার্স কলেজ সড়কটি বেশ প্রশস্ত। এ সড়কের পাশে বিইউবিটি, কমার্স কলেজ, মনিপুর স্কুল, রূপনগর সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজ, রাজধানী মহিলা কলেজসহ ১৫-২০টি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ৫০টির মতো কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। স্কুলের শিক্ষকরা এসব কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। রূপনগর আবাসিক এলাকার সড়কে ট্রাফিক পুলিশ কিংবা প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া গতিতে বিভিন্ন যানবাহন চলে।

সড়কটি প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে থাকে। স্কুল-কলেজ সময়ে যানজটের তীব্রতা বেশি হয়। রূপনগর আবাসিক এলাকা ১নং রোড থেকে ৩৩নং রোড পর্যন্ত মূল সড়ক ও রিংরোড সড়কের গেট বেশিরভাগ সময় সন্ধ্যার পর আটকানো থাকে।

কোনো যানবাহন ভেতরে ঢুকতে পারে না। বর্তমান কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী বলেন, সামনে দলীয় কাউন্সিল। নির্বাচন করব কিনা বলতে পারছি না। কাউন্সিলের পর সিদ্ধান্ত নেব।

রূপনগর থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তফাজ্জল হোসেন টেনু বলেন, এ ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। যদি কাউন্সিলর নির্বাচিত হই যানজট নিরসন, কমিউনিটি সেন্টার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডিজিটাল লাইব্রেরি, কবরস্থান, আধুনিক খেলার মাঠ ও শিক্ষাবান্ধব ওয়ার্ড উপহার দেব।

রূপনগর থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, এর আগে ২০০২ ও ২০১৫ সালেও আমি কাউন্সিলর নির্বাচন করেছি। প্রত্যেকবার আমার জয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছি।

আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব সমস্যা রয়েছে তার সমাধান করব। মাদক নির্মূল, বস্তিবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট সংস্কার, বিনোদন কেন্দ্র উদ্ধার, যানজট নিরসন, পরিকল্পিত নগরায়ন, সিসিটিভি স্থাপন, ফ্রি ওয়াইফাই ও শিক্ষাবান্ধব জোন হিসেবে পুরো ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজাব।

মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. এজাজ আহমেদ স্বপন বলেন, যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় নির্বাচন করব। এলাকাবাসীর সেবা করতে চাই। সুযোগ পেলে এ ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করব।

মিরপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন দুলু বলেন, দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত একটি আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তুলব। মানুষ রাস্তায় যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা করব। গরিব ও অসহায়দের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সেবা দেব।

৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইয়াসিন ভাণ্ডারী ময়না বলেন, যদি দল আমাকে মনোনীত করে নির্বাচন করব। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এলাকাবাসীর সেবা করতে চাই। সুযোগ পেলে এই ওয়ার্ডে একটি মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করব।