বায়িং হাউজ নিবন্ধনের সময়সীমা প্রত্যাহার
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৭ ১২:৫৯:৩৬
দেশের পোশাক খাতের সব বায়িং হাউজকে বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধন নেয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে। আইন পরিপালন করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় অধীনস্থ বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধন নিতে দুই দফা সময়ও বেঁধে দেয়া হয়। তবে সম্প্রতি বস্ত্র অধিদপ্তর বেঁধে দেয়া এ সময়সীমা তুলে নিয়েছে।
জানা গেছে, বস্ত্র আইন ২০১৮ প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের বস্ত্র-পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট বায়িং হাউজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন নেয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। আইনে দিকনির্দেশনা ছিল বস্ত্র শিল্পের পোশাক কর্তৃপক্ষ বস্ত্র অধিদপ্তরের নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে পোশাকের বায়িং হাউজ, ব্র্যান্ড ও অন্য ক্রেতাদের লিয়াজোঁ কার্যালয় থেকে শুরু করে শিল্প সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো। আইনের আওতায় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চলতি বছরের এপ্রিলে নিবন্ধন নিতে আহ্বানও জানানো হয় বায়িং হাউজগুলোকে।
কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে ২৮ মে সময়সীমা বৃদ্ধি করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ হতে বায়িং হাউজগুলোকে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন করতে পারলে নিবন্ধক অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় বৃদ্ধি করতে পারবে। এ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন গ্রহণে ব্যর্থ হলে প্রজ্ঞাপনের ধারা অনুযায়ী সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
সূত্রমতে, আইন প্রণয়নের পরপরই নিবন্ধন বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে দেশের ব্যবসায়রত বায়িং হাউজগুলোকে অনতিবিলম্বে নিবন্ধন নেয়ার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমা শেষে নতুন কোনো বায়িং হাউজ প্রতিষ্ঠা পেলে সেগুলোর নিবন্ধন নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে ধারণা পোষণ করেন সংশ্লিষ্টরা। আর সেই ভাবনা থেকেই সম্প্রতি সময়সীমার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত অক্টোবরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বস্ত্র আইন ২০১৮-এর ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে বায়িং হাউজ নিবন্ধন আবেদনের পদ্ধতি, নিবন্ধন সনদ প্রদান, নিবন্ধন স্থগিত, নবায়ন ফি নির্ধারণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি নির্ধারণের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত দুটি প্রজ্ঞাপনে সংশোধন আনা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নিবন্ধনসহ সব সেবা ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে। আরেকটি সংশোধন হলো বায়িং হাউজ নিবন্ধনের সময়সীমা রহিত করা হলো।
জানতে চাইলে বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দিলীপ কুমার সাহা বলেন, সময়সীমা তুলে নেয়ার কারণ আছে। ছয় মাসের মধ্যে বায়িং হাউজের নিবন্ধন করে ফেলতে হবে, কিন্তু ছয় মাস পরে যখন নতুন কেউ আসবে, তখন তাকে কীভাবে দেব? সেজন্য এখন ওপেন। যে নতুন ব্যবসায় আসছে, সেও নিবন্ধন নিতে পারবে, যে আগে নেয়নি, সেও নেবে। আগের পদক্ষেপ নেয়ার সময় ভবিষ্যতে যারা আসবে, তাদের বিষয়টি ভাবা হয়নি। সময়সীমা তুলে দেয়ার পর নিয়মিতই আবেদন আসছে।
পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বায়িং হাউজের মতো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আয়ের বড় একটি অংশ চলে যায় অন্যের পকেটে। যদিও আশির দশকে শিল্পের শুরুর দিকে বিকাশের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বায়িং হাউজ মালিকরা। কিন্তু এখন পোশাক খাতের কারখানা মালিকদের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে বিপণন সংযোগ ও দরকষাকষির কার্যক্রম পরিচালনার। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই সরকার বস্ত্র শিল্প আইন-২০১৮ প্রণয়ন করে। নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় ওই আইনের মাধ্যমে। বস্ত্র অধিদপ্তর সূত্রমতে, নিবন্ধন নিতে সরকারের ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন পাওয়া বায়িং হাউজের সংখ্যা ২১১টি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি কেআই হোসেন বলেন, নতুন বায়িং হাউজকে ব্যবসা-বাণিজ্যে আনতে সময়সীমা তুলে নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বিজিবিএর সদস্য বায়িং হাউজ সক্রিয় আছে প্রায় ৪০০টি। এছাড়া রয়েছে বিদেশী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের লিয়াজোঁ অফিস। বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে ব্র্যান্ড ক্রেতাদের লিয়াজোঁ দপ্তর হিসেবে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে এক থেকে দেড়শ। এর মধ্যে আছে এইচঅ্যান্ডএম, সিঅ্যান্ডএ, লিঅ্যান্ডফাং, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, ইন্ডিটেক্স, গ্যাপ, জেসিপেনিসহ আরো বহু বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড। এসব প্রতিষ্ঠানকেও বস্ত্র আইনের মাধ্যমে পোশাক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত কোনো শর্ত ভঙ্গ করা হলে বা নিবন্ধন প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনে ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করা হলে নিবন্ধক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে পারবেন। বস্ত্র আইনের ধারা ১৪তে পৃথকভাবে বায়িং হাউজের নিবন্ধনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বায়িং হাউজের নিবন্ধন আবেদনের পদ্ধতি, নিবন্ধন সনদ প্রদান, নিবন্ধন স্থগিত ও নবায়ন, ফি নির্ধারণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করতে পারবে।
নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের ধারায় বলা হয়েছে, পোশাক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ব্যতীত কেউ বায়িং হাউজ পরিচালনা করলে সরকার আইনের অধীনে শাস্তি আরোপ করতে পারবে। জাল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনমতো অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা বস্ত্র অধিদপ্তর গ্রহণ করতে পারবে। সূত্র: বণিক বার্তা
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














