ব‌্যস্ততা বাড়ছে লেপ-তোষকের কারিগরদের

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৭ ১৪:০১:২৭


পৌষ মাস শুরু হয়েছে গতকাল। পৌষ ও মাঘ মাস শীতকাল হলেও এর আগেই শীতের আগমন ঘটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। শীতের প্রকোপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে লেপ-তোষকের চাহিদা।

নওগাঁর মহাদেবপুরে লেপ-তোষকের কারিগররা ব‌্যস্ত সময় পার করছেন। লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মচাঞ্চল‌্য বিরাজ করছে। বছরের অন্যান্য সময় বেচাকেনা কম হলেও শীত মৌসুমে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে, লেপের চাহিদা বাড়ে বেশি। সারা দিনের কর্মব‌্যস্ততা শেষে রাতে একটু আরামে ঘুমানোর জন‌্য দরকার লেপের উষ্ণতা।

তুলা পিটিয়ে তা রঙ-বেরঙের কাপড়ের তৈরি কাভারে মুড়িয়ে সুঁই-সুতার ফোড়ে তৈরি করা হয় লেপ-তোষক। অধিক মুনাফা ও বেশি বিক্রির আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন লেপ-তোষকের কারিগররা। ক্রেতারাও লেপ-তোষক কেনার জন্য ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। যথাসময়ে লেপ-তোষক সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। প্রতিদিন একজন কারিগর ছয় থেকে আটটি লেপ তৈরি করেন। উপজেলার অর্ধশতাধিক কারিগর মাত্র দুই-তিন মাসের শীত মৌসুমে লেপ-তোষক তৈরি করে সারা বছর সংসার চালানোর মতো অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেন।

মাঝারি ধরনের একটি লেপ বানাতে খরচ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। তোষক বানাতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তুলার প্রকারভেদে লেপ-তোষকের দাম কম-বেশি হয়।

লেপ কিনতে আসা উপজেলার সফাপুর গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, ‘বেশি বেশি লেপ-তোষক কিনছেন সাধারণ মানুষ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি।’

কারিগর ফরিদুল বলেন, ‘সারা বছর তেমন একটা ব্যবসা হয় না। পুরো বছরের ব্যবসা শীতের এই দুই-তিন মাসে করতে হয়। শীতের শুরু থেকে ক্রেতারা লেপ-তোষকের দোকানে আসতে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকারভেদে লেপ-তোষক তৈরির মজুরি ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়। আগের তুলনায় ব্যবসায় প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। তাই সামান্য লাভেই কাজ করে দিতে হয়।’
সানবিডি/ঢাকা/এসএস