অভিবাসন খাতের চেহারা পাল্টাতে চান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৭ ১৬:০৬:৩০


দেশের বাহিরে দক্ষকর্মী প্রেরণকে প্রাধান্য দিয়ে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে অভিবাসন খাতের চেহারা পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব অভিবাসন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের টার্গেট দক্ষকর্মী। অভিবাসনে যারা যায়, তাদের বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রতারিত হয়। এটা আমি পরিবর্তন করব। কারণ আমাদের দেশ থেকে যারা শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যান তারা তাদের ঘরবাড়ি, জমিসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সম্পদ ব্যয় করে সেখানে যান।’

আগামীকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘে গৃহীত সকল অভিবাসীকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস পালিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে এবার স্লোগান হচ্ছে ‘সামাজিক মেলবন্ধনের জন্য অভিবাসন’। আর বাংলাদেশের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ সম্মান দুই-ই মেলে’।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের প্রত্যেক জেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় একটা করে টিটিসি স্থাপন করা হবে। এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে অনেক জেলার লোক বিদেশ কম যান, যেন সবাই যেতে পারে। আমি মনে করি এটা সব উপজেলায় থাকা দরকার।’

অভিবাসন দিবসে শ্রমবাজার নিয়ে নতুন কোনো সুখবর আছে কিনা জানতে চাইলে ইমরান আহমেদ বলেন, ‘জাপান আরও লোক নিতে চায়, তবে দক্ষ খোঁজে। আমরা নতুন বাজার খোলার বিষয়ে চেষ্টা করছি, সেই হিসেবে এগোচ্ছি। বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দ্রুত মালয়েশিয়া তাদের বাজার উন্মুক্ত করবে। ইউক্রেন, মরিশাস, উগান্ডার মতো অনেক দেশেও শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

বন্ধ বাজার খোলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের বন্ধ হয়ে যাওয়া সব বাজার খুলে যাবে। এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

অভিবাসন দিবস উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এর মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে আন্তর্জাতিক অভিবাস দিবস উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের করা হবে। ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সকাল ১০টায় মূল অনুষ্ঠানের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বা বাণিজ্যিক গুরত্বপূর্ণ সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননা প্রদান করা হবে। এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা দেওয়া হবে ১৪টি দেশের ৪২জন অনাবাসীকে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রবর্তিত জীবন বীমার কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, অভিবাসন মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরব থেকে নারীকর্মী ফেরত প্রসঙ্গে ইমরান আহমদ বলেন, ‘সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নির্যাতন প্রতিরোধে ওই দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এখন থেকে কোনো নারী অভিযোগ না করলেও তার পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবে সৌদি সরকার।’

‘সমস্যা সৃষ্টির পর সচিব গিয়ে মিটিং করেছে, শক্ত কথা হয়েছে। আমরা আগে থেকে স্টেট, এ অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। আমাদের মেয়েরা সেখানে গিয়ে ভালো থাকবে সেটাই আমাদের চাওয়া।’

বাংলাদেশ সরকার নারী শ্রমিকদের কম মজুরি, চুক্তি অনুযায়ী নিয়োগ না দিলে এবং অভিবাসন ব্যয় বেশি নিলে সৌদি সরকার ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী বিদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, গত বছর বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ চলতি বছরের পাঁচ মাসেই ছাড়িয়ে গেছে। বছর শেষে সেটা ২১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া যায় কিভাবে সেটা নিয়ে কাজ করছি। আমরা রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করতে চাই, দক্ষকর্মী প্রেরণে রেমিট্যান্স বেশি আসবে। আমরা অধিক পরিমাণ দক্ষ কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে অনেক বেশি রেমিট্যান্স নিয়ে আসতে চাই।’

নির্যাতিত হয়ে সৌদি থেকে ফেরত নারীকর্মীরা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘যারা ফেরত এসেছেন তাদের এয়ারপোর্টে নামার সঙ্গে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ইনসেনটিভ দেওয়ার ব্যবস্থাসহ আমরা বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। যারা ফেরত আসছে পুনরায় যেতে চাইলে প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাব। আর এটার এজন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’
সানবিডি/ঢাকা/এসএস