রোহিঙ্গাদের মায়ানমারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে মত প্রকাশ

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৭ ১৬:১৯:৪৮


টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মায়ানমারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।

১১ ডিসেম্বর’১৯ যুক্তরাষ্রে্ র হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষাবিদসহ অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিগণ একমত হয়েছেন যে, মানুষ ও গ্রহের স্থায়িত্ব নিশ্চিত কল্পে কাজ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তাই আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর যে ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটেছে তার বিচার ও তাদেরকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন, তাদের অধিকার ও মর্যাদাবোধ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববাসিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো উচিত। ১৯৭২ সালের পর থেকে প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে, ১৮ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু ধর্ষণ করা হয়েছে, প্রায় ১৮ লক্ষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, প্রায় সকল গ্রাম এবং অন্যান্য সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে এবং মিয়ানমারে প্রায় ২ লক্ষ রোহিঙ্গার অর্ধেকেরও বেশি “অভ্যন্তরীণ আইডিপি ক্যাম্পে” আটক রয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের সাহায্য করার জন্য সম্মেলনে বিশেষত বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করা হয়। এই শরণার্থীরা আজকের বিশ্বের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক ঘনবসতিযুক্ত শরণার্থী হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীগণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা জনগণের জীবন বাঁচাতে একটি স্থায়ী সামাধানে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে কারণ তারা মৃত্যু, ক্ষুধা, রোগ, শোষণ, পরিচয় ও মর্যাদার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদেরকে মায়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান এবং যারা এ ধরণের মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন করার ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। অন্যদিকে তাদের বাড়িঘর ফেরত প্রদানসহ তাদের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

ওন্টারিয়ও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি, কানাডা এবং বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই)’র যৌথ উদ্যোগে “রোহিঙ্গা সঙ্কট” শীর্ষক একটি বিশেষ গোলটেবিল আলোচনার “রোহিঙ্গাদের নিরস্ত জীবন এবং বাংলাদেশে উভয়সঙ্কট” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল আলোচনায় কাউকে পিছনে না রেখে জীবনকে রূপান্তরিত করাই টেকসই বিকাশের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয় এবং আরো উল্লেখ করা হয় যে, ২০১৬ সালে বিশ্ব এসডিজি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিল তখন তাতমাডো নামে পরিচিত মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে অহেতুকভাবে ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতা শুরু হয়েছিল যা বিশ্ববাসির নিকট অনভিপ্রেত।

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অস্ট্রেলিয়াস্থ সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা, জার্মানি, নরওয়ে ও ফিলিপাইনের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম এর নেতৃত্ব দিয়েছে এবং দেশে বিদেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারের আয়োজন করেছে এবং সরকারকে সহায়তা করার লক্যেছে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সানবিডি/ঢাকা/এসআই