সোয়া ৩৫ কোটি পাঠ্য বই উৎসবের জন্য প্রস্তুত
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-১২-২১ ১২:১৬:১১
স্কুলগুলোয় বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। শিক্ষার্থীদের অনেকে পরিবার-পরিজনসহ কেউ গ্রামের বাড়িতে, কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, কেউ দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থান দেখতে বেড়াতে বেরিয়েছে। তবে সবার টার্গেট, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ফিরে আসা। কারণ, প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব। কেন্দ্রীয়ভাবে ছাড়াও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন বই। শিক্ষার্থীরাও নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে উন্মুখ।
এরই মধ্যে উৎসবের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় সোয়া ৩৫ কোটি পাঠ্য বই। যা সারা বিশ্বের জন্য অনন্য এক নজির, অনন্য এক দৃষ্টান্ত। পৃথিবীর অনেক বড় ও ধনী দেশের জনসংখ্যা দুই থেকে তিন কোটি। ওসব দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ৫০ লাখের বেশি না। ওসব দেশ বিনা মূল্যে বই দেওয়ার কথা এখনো চিন্তা করেনি। অথচ ১৬ কোটির বেশি মানুষের দেশ বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীকে ২০১০ সাল থেকে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে পাঠ্য বই।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই ছাপানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫টি বই এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। এবার বিনা মূল্যের বই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ৩৫০ কোটি এবং মাধ্যমিকের জন্য ব্যয় হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমাদের ৩৫ কোটি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এসব বই এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে এখন স্কুলপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ কাজও শেষের পথে। চলতি সপ্তাহেই শতভাগ বই স্কুলপর্যায়ে পৌঁছে যাবে। আশা করছি, বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষার্থীর হাতেই নতুন বই পৌঁছবে।’
২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০০টি বই, প্রাথমিক স্তরের জন্য ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৭২টি বই ছাপা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষার ৯৭ হাজার ৫৭২টি শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির দুই লাখ ৩০ হাজার ১৩০টি বই ছাপানো হয়েছে। দেশের ৭৫০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হয়েছে ৯ হাজার ৫০৪টি বই।
মাধ্যমিক স্তর ও মাদরাসার দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই। ইবতেদায়ি (মাদরাসার প্রাথমিক) স্তরের জন্য ছাপানো হয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি বই। এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১৬ লাখ তিন হাজার ৪১১টি বই এবং এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ছয় হাজার ২৮টি বই এবং দাখিল ভোকেশনালের জন্য ছাপানো হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫টি বই।
এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কাজ পেয়েছে সব দেশীয় প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিকের বই ছাপার কার্যাদেশ পেয়েছে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান। আর মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ করেছে ২৩৪টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
এনসিটিবির সদস্য (টেক্সট) প্রফেসর ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘যথাসময়ে মানসম্মত বই ছাপতে আমরা এবার শুরু থেকে তৎপর ছিলাম। প্রেস মালিকদের কাউকে কাউকে আমাদের চাপও দিতে হয়েছে। অনেকে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহায়তা করেছেন। ফলে আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব বই প্রস্তুত করতে পেরেছি। এ ছাড়া এবার এনসিটিবির উৎপাদন ও বিতরণ শাখাও ছিল যথেষ্ট তৎপর।’
বই ছাপার মানের বিষয়ে ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেস মালিকদের এবার আমরা ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছিলাম। মানসম্পন্ন না হওয়ায় একবারে একটি প্রেসের ৪০ হাজার বই আমরা বাতিল করেছি। এতে অন্যরাও সতর্ক হয়েছে। ইন্সপেকশন এজেন্টের পাশাপাশি এনসিটিবির নিজস্ব তদারকি টিম সার্বক্ষণিক নজর রেখেছে। আমার মনে হয়, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের বই ছাপার মান ভালো হয়েছে।’
২০১০ সাল থেকে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে সরকার বিনা মূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ করছে। বছরের প্রথম দিন তা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত গত ১০ বছরে বিনা মূলে বিতরণ করা হয়েছে ২৯৬ কোটি সাত লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই। আর আসছে শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই। সূত্র: কালের কণ্ঠ
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














