বিনা শুল্কে আমদানির সুবিধা

বাধ্যতামূলক হচ্ছে ব্যাংক গ্যারান্টি!

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৩ ১২:৫৫:০৭


আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বন্ড দুর্নীতি বন্ধ করতে ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অর্থাৎ বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বিনা শুল্কে আমদানি করা কাঁচামালের মূল্যের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়ে ওই কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। বন্ডসংক্রান্ত বিজনেস প্রসেস নীতিমালার খসড়ায় এ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। তারপর এটি বন্ড অটোমেশনে যুক্ত করা হবে।

দুর্নীতি বন্ধে বন্ডসংক্রান্ত সব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্ড অটোমেশন প্রকল্প শুরু হয় ২০১৭ সালে, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছর জুন মাসে। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, লোকবল নিয়োগ, অফিসের স্থান নির্ধারণ, ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা, সেমিনার আয়োজনসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ফলে প্রকল্প মেয়াদ ২০২১ সালের জুন এবং ব্যয় ৯৫ কোটি ২৭ লাখ টাকায় বর্ধিত করা হয়েছে। বন্ড অটোমেশনের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা এনবিআর থেকে গত ৩০ জুলাই অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ সংশোধিত প্রকল্প নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যে কারণে বর্ধিত প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এনবিআরসংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, প্রকল্প অনুমোদন হলে বন্ড অটোমেশনের কাজে গতিশীলতা আসবে।

বন্ডসংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনা নীতিমালায় উল্লেখ আছে, ইন্টু বন্ড রেজিস্টার (পণ্য গুদামে প্রবেশ) ও এক্স বন্ড রেজিস্টার (গুদাম থেকে বের হওয়া পণ্য)—এই দুই তথ্য এনবিআর কর্মকর্তারা অনলাইনে নজরদারি করতে পারবেন। বন্ড সুবিধায় কী পরিমাণ পণ্য আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছে, এরপর অনুমোদন সাপেক্ষে কী পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে, তা দিয়ে কী পরিমাণ রপ্তানি পণ্য উৎপাদন করে কতটাই বা রপ্তানি করা হয়েছে—এর সবই অনলাইনে দেখতে পাবে এনবিআর। বাংলাদেশ ব্যাংক, তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন (বিজিএমইএ) সংশ্লিষ্টরাও ঘরে বসে অনলাইনে এসব কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বন্ড দুর্নীতি বন্ধ করতে বন্ড অটোমেশনের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি পদ্ধতি তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে বন্ড অটোমেশনের বিজনেস প্রসেস তৈরির কাজও চলছে। কিভাবে বন্ড দুর্নীতি বন্ধ করে এসংক্রান্ত কার্যক্রম গতিশীল ও সুচারুভাবে পরিচালনা করা যায় তার কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিটি ধাপে ব্যবসায়ীদের মতামতের মূল্যায়ন করা হবে।’

বিজনেস প্রসেসসংক্রান্ত খসড়া নীতিমালাটি অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যদের কাছে উপস্থাপন করে মতামত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি এবং বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বন্ড অটোমেশন বাস্তবায়ন করা হলে বন্ড দুর্নীতি অনেক কমে যাবে। বন্ডসংক্রান্ত কাজে স্বচ্ছতা আসবে। যেকোনো সৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা এনবিআরের সঙ্গে আছেন।’

এনবিআর সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বন্ড অটোমেশনের বিজনেস প্রসেস নীতিমালা তৈরি করতে ৭০টি বৈঠক ও পাঁচটি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ী নেতারা বন্ড অটোমেশন কিভাবে পরিচালনা হবে, কিভাবে ব্যবসায়ীরা দ্রুত সেবা পাবেন—সে সম্পর্কে বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন।

দেশে ছয় হাজারের বেশি বন্ড লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড ব্যবস্থাপনা চলে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে। প্রতিবছর বন্ড দুর্নীতির কারণে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার। অটোমেশন বাস্তবায়িত হলে এই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা হবে।
সানবিডি/ঢাকা/কালের কণ্ঠ/এসএস