দেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করছে: প্রধানমন্ত্রী

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৪ ১২:৪১:৫৬


বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার আছে। সেই সমান অধিকার নিয়েই আপনারা থাকবেন। গতকাল বিকালে গণভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য আমরা কাজ করি। আমরা প্রত্যেক ধর্মের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। এ বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে, সমান সুযোগ নিয়ে বসবাস করবে, আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাসী।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ এক হয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা চাই, এ বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যাতে তার নিজের সন্তানের জন্য সম্পদ দিয়ে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়। সেখানেও সরকারের পক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব এলে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কল্যাণ তহবিল থেকে টাকা দিই। এবারো দিয়েছি। কিন্তু সেটা কোনো সংগঠনের জন্য নয়। চার্চের মাধ্যমে সেই টাকা বিতরণ হয়, সবাই যেন অন্তত একটু মিষ্টিমুখ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১২ সালে ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। আমরা অনুরোধ করব, খ্রিস্টান সম্প্র্রদায়ের অনেকেই তো অর্থশালী-সম্পদশালী আছেন, আপনারা কিন্তু অনুদান দিতে পারেন। প্রত্যেকটা ধর্মের জন্যই আমরা এটা করে দিয়েছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য করে দিয়েছি। ২০০১ সালের পর বিভিন্ন জায়গায় অনেক হামলা হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার ওপর জামায়াত-বিএনপি হামলা করেছিল। যেখানে যেখানে চার্চ ধ্বংস করা হয়েছে, সেখানে যথাযথ মেরামতের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের তো সৌভাগ্য, বাংলাদেশ কার্ডিনাল পেয়েছে। সেজন্য আমি গর্ববোধ করি। এজন্য পোপকেও আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা পোপের জন্য কনটেস্ট করতে পারব, সে সুযোগ আমাদের আছে। আমি আর কিছু বলতে চাই না। এ বিষয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায় সিদ্ধান্ত নেয়। আপনারা গণভবনে এসেছেন, গণভবনের মাটি ধন্য হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বড়দিনের সংগীত পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বড়দিনের শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও ও বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের বাংলাদেশে সর্বোচ্চ প্রতিনিধি কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং, সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, বাংলাদেশ খ্রিস্টান লীগের সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল নির্মল ডি কস্তা প্রমুখ।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস