ভারতের অর্থনীতির বেহাল দশা, বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৮ ১৯:০৬:০৩
ভারতের অর্থনীতির বেহাল দশার ফলে ব্যাংকের অনাদায়ি ঋণের বোঝা আগামী এক বছর বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস প্রদান করেছে দেশটির রিজার্ভ ব্যাংক।
দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, শনিবার রিজার্ভ ব্যাংক জানায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা ৯.৯ শতাংশে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির মূল্যায়নকারী সংস্থা ইক্রা-র আশঙ্কা, ব্যাংকের ঋণের বৃদ্ধির হার ৬৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে তলানিতে নামতে চলেছে।
অর্থনীতির এই করুণ দশা লাঘবে রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দেশটির ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। কিন্তু তার পূর্বে রিজার্ভ ব্যাংকের প্রতিবেদনের কারণে সীতারামনের নিকট কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
শনিবার রিজার্ভ ব্যাংক ‘ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্ট’-এ বলেছে, দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধির দু’টি ইঞ্জিন বাজারের কেনাকাটা ও লগ্নি চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জ বজায় থাকছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে বাজারে চাহিদা আরও কমেছে। সেই জন্য বৃদ্ধির হার আরও কমেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মোদিজি বোঝাতে পারছেন না, অর্থনীতির বেহাল দশা কী ভাবে হল। বোধহয় উনি নিজেও বোঝেন না, কী ভাবে হল।’’
রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাসও এই দু’টি চ্যালেঞ্জের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতির চারটি ইঞ্জিনের মধ্যে সরকারি খরচ বাদ দিলে বাকি থাকে শুধু রফতানি। সেখানেও আশার খবর শোনাতে পারছে না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার কারণে ভারতের রপ্তানি খুঁকিতে পড়তে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশ্য শিমলায় দাবি করেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার সাময়িক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মোদীজি, নির্মলা সীতারামনজি এর মোকাবিলায় রাতদিন লড়াই করছেন। আমার বিশ্বাস, ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে সকলের আগে মন্দা থেকে বেরিয়ে আসবে।’’
কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংকের মতে, অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি, ঋণের বৃদ্ধি কমে যাওয়ার ধাক্কায় ব্যাংকগুলির অনাদায়ি ঋণ বা এনপিএ ২০২০-র সেপ্টেম্বরে ৯.৯ শতাংশ পৌঁছাবে। যা ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে ৯.৩ শতাংশে ছিল।
রাহুলের কটাক্ষ, ‘‘এখন প্রধানমন্ত্রীর যে কাজ, সেটা উনি করতে পারছেন না। কেউ কিছু কিনছেন না। কারখানা বন্ধ। অর্থনীতি কঠিন বিষয় নয়। আগে বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ ছিল, এখন ৪ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। তা-ও নতুন পদ্ধতিতে মেপে। পুরনো পদ্ধতি হলে বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৫ শতাংশ। গরিব মানুষ একটাই প্রশ্ন করছেন রোজগার কী ভাবে মিলবে।’’
দেশটির অর্থমন্ত্রণালয়ের মতোই আর্থিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শেয়ার বাজারে এ কারণে ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। কেয়ার রেটিংস-এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ মদন সবনভিসের মতে, এ থেকে স্পষ্ট, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে রাহুর দশা এখনও কাটেনি। শেয়ার বাজারে লগ্নিকারীরা এর ফলে সাবধানী হয়ে পড়তে পারেন।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর এইচ আর খানের মতে, ‘‘ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি না পেলে স্বাভাবিক যে এনপিএ-র হার বাড়বে।’’
রিজার্ভ ব্যাংক শনিবার জানায়, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলির অবস্থা মোটেই ভাল নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বারের সেপ্টেম্বরে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির হারও কমের দিকে, মাত্র ৮.৭ শতাংশ।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














